চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত ও পানিবন্দি অসহায় মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা নিয়ে নিরলসভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং ‘আমরা কুমিল্লার তরুণ প্রজন্ম’। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘবে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে স্বেচ্ছাসেবীদের একাধিক দল উপদ্রুত এলাকায় দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
দুর্গম এলাকায় পদব্রজে ও নৌকায় ত্রাণ বিতরণ
সংগঠন দুটির মানবিক স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়া চরম দুর্গম এলাকাগুলোতে তারা বৈঠা চালিত নৌকা ও পায়ে হেঁটে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি উপকরণ পৌঁছে দিচ্ছেন। ত্রাণের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে যেসব প্রান্তিক পরিবার বন্যার শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রকার পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি, মূলত তাদেরকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বন্যাজনিত রোগের চিকিৎসায় বিশেষ মেডিকেল টিম
খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি বন্যার্তদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়েছে সংগঠন দুটি। তাদের নিয়োজিত দক্ষ মেডিকেল টিম বন্যাজনিত কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন মৌসুমি ও পানিবাহিত রোগ—যেমন তীব্র জ্বর, ডায়রিয়া, চর্মরোগ (অ্যালার্জি ও ক্ষত), সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত পানিবন্দি মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে এবং প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করছে।
সংগঠন দুটির দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যার এই তাৎক্ষণিক জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনেও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার জোরালো পরিকল্পনা রয়েছে। গৃহহীন ও সহায়-সম্বলহীন মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে দেশ ও বিদেশের সকল বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও মানবিক সংগঠনগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
মানবিক এই অভিযানে অংশ নেওয়া তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা আবেগ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষের এই চরম দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের অন্যতম নৈতিক দায়িত্ব। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও শক্তি অনুযায়ী এই বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাব।” স্থানীয় বাসিন্দারা তরুণদের এই সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত ত্রাণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে জানিয়েছেন, এমন মানবিক উদ্যোগ বন্যাকবলিত প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করছে।