রাজধানীতে সুফিবাদী সুন্নী মহাসমাবেশ সম্পন্ন: উপস্থিতি নিয়ে নেটিজেনদের সমালোচনা

আজ ২৫ জুলাই রোজ শনিবার, দেশব্যাপী সুফি-সাধকদের মাজার ও খানকা শরীফে ক্রমাগত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগে জড়িতদের বিচার এবং বিভিন্ন সামাজিক অসঙ্গতি দূর করার ৩ দফা দাবিতে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘সম্মিলিত সুন্নী পীর-মাশায়েখ ফোরাম’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুফিবাদী সুন্নী মহাসমাবেশ। তবে সুমহান লক্ষ্য ও নানা দাবির মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হলেও সমাবেশ প্রাঙ্গণে প্রত্যাশিত লোকসমাগম না হওয়া এবং আশানুরূপ উপস্থিতি অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়।

প্রত্যাশিত উপস্থিতি নিয়ে নেটিজেনদের প্রশ্ন
সমাবেশে বিপুল সংখ্যক ফাঁকা চেয়ারের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সমালোচনায় মেতে ওঠেন নেটিজেন ও সুফি-সমাজের অনুসারীরা। অনেকেই অভিযোগ করছেন, “মহাসমাবেশ” নামক এই বিশাল আয়োজনে মূল যে জনসমুদ্রে রূপ নেওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

নেটিজেনদের বড় একটি অংশ এটিকে সুফিবাদী আন্দোলনের জনমত ও সাংগঠনিক কাঠামোর দুর্বলতা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্ম কিংবা সাধারণ মানুষের মনোভাব বুঝতে উদ্যোক্তারা ব্যর্থ হয়েছেন।

বিগত বছরের ২৬ এপ্রিলের বিশাল সমাবেশের সাথে তুলনা টেনে অনেকেই বলছেন, যেখানে মাত্র এক বছর আগের সমাবেশে ঢাকার অলিগলি পর্যন্ত মানুষের উপচে পড়া উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল, সেখানে আজকের এই ক্ষীণ উপস্থিতি আয়োজকদের নীতি ও রূপরেখা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

সমাবেশের অন্যতম উদ্যোক্তা স‌ উ ম আব্দুস সামাদ তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন, “শত শত পীর মাশায়েখের উপস্থিতি আজকের সমাবেশের মাইলফলক”। তবে এই পোস্টের পর মুহূর্তেই কমেন্ট বক্সে ক্ষুব্ধ সুফি-সমাজের অনুসারীদের বিরূপ মন্তব্যের জোয়ার ভেসে আসে।

শিহাব‌উদ্দিন মাহমুদ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গাত্মক সুরে মন্তব্য করেন: “স্যার‚ অনুগ্রহ করে কমেন্টগুলো পড়বেন। এতে গর্বিত হবেন আরো।”
আয়োজনের চরম ফাঁকা পরিবেশ দেখে কামরুল আহসান আল কাদেরী নামের এক অনুসারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন: “চেয়ার সমাবেশ সফল হয়েছে।”

সমাবেশে পীর-মাশায়েখদের অনুসারীদের অনুপস্থিতি নিয়ে কবির ফয়েজ নামের একজন গাণিতিক হিসেব টেনে প্রশ্ন তুলেছেন: “শতশত পীর মাশায়েখ উপস্থিত হলে তাদের মুরিদগুলো কোথায়? ধরে নিলাম একশ জন পীর উপস্থিত হয়েছে। পীর প্রতি একশ জন মুরিদ উপস্থিত হলে ১০ হাজার মানুষ হতো। সুন্নিয়তকে আর কতো হাস্যকর বানাবেন?”

অনেকে আবার তুলছেন তৃপ্তির ঢেকুর।
মামুন উদ্দিন সিদ্দিকী নামের একজন লিখেছেন: “বিগত সময়ে যেখানে কয়েকজন সম্মানীত পীর- মশায়েকগণকে এক জায়গায় করা যেত না সেই ক্ষেত্রে আজ শতশত পীর-মাশায়েককে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক মঞ্চে জমায়েত করা অনেক বড় সফলতা।”

সমাবেশ শেষে এভাবেই পক্ষে বিপক্ষে চলছে বহুমাত্রিক আলোচনা সমালোচনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুফি-সমাজের মধ্যে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ না থাকায় আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত