রংপুরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত সুলতান সৈয়দ শাহ্ মাখদুম আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানী (রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহু)-এর ৬৪০তম পবিত্র উরসে মাখদুমী দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৯ ও ১০ জুলাই নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে অবস্থিত খানকাহ জাওয়াতুন নাঈমে এ উরসের আয়োজন করা হয়। খলিফা শাহ্ সুফি মোহাম্মদ আবরার আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রথম দিন পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা হয়। পরে হামদ ও নাত পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাখদুম আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানীর জীবনাদর্শ, আধ্যাত্মিক দর্শন এবং ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তাঁর অসামান্য অবদান নিয়ে আলোচনা করেন মাদ্রাসা আল-জামিয়াতুল আশরাফিয়া ইজহারুল উলুমের প্রধান শিক্ষক মাওলানা শাহরিয়ার আশরাফী। আলোচনা শেষে আগত ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
উরসের সমাপনী দিনে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, ডেগ ফাতেহা, শরিয়াহসম্মত মাহফিলে সেমার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি বিভিন্ন সুফিবাদী সংগঠনের দায়িত্বশীলরাও এতে অংশ নেন।
উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমান-এ গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি হাজী তাসলিম আশরাফী, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা আশরাফী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাদিম আশরাফী, কোষাধ্যক্ষ ইরফান আশরাফী, আহলে সুন্নাহ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক খালিদ আজম আশরাফী, সারকারে কাঁলা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক খলিফা সৈয়দ আসিফ আশরাফী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গোলাম মুরশিদ আশরাফী, জিলানী আশরাফী, গোলাম আশরাফ, মো. শাহনেওয়াজ তাজু, আরমান কাদেরী, আনোয়ার রেজা আশরাফীসহ আরও অনেকে।
আয়োজকরা বলেন, বর্তমান সময়ে যেখানে উরসের নামে বিভিন্ন স্থানে অসামাজিক ও শরিয়াহবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ শোনা যায়, সেখানে শরিয়াহসম্মত, সুশৃঙ্খল ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে আয়োজিত এ ধরনের উরস মুসলিম সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।