পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চলমান পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সপ্তম দিনের ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহফিলের সমাপনী অধিবেশনে সুদ, ঘুষ এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে মহানবী (দ.) এর আদর্শ প্রসঙ্গে আলোচনা করেন রাজধানীর কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মুহাম্মদ ফজলুল হক।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মো. রেজ্জাকুল হায়দার। মাহফিল পরিচালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক সংগঠক মুহাম্মদ মুজিবুল হক।
আলোচনায় মুফতি আবুল কাশেম মুহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) শুধু একটি জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ রেখে গেছেন। তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শে রয়েছে সত্য, ন্যায়, আমানতদারি, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও ইনসাফের অনুপম শিক্ষা। সেই আদর্শ অনুসরণ করেই একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতি সমাজের নৈতিক ভিতকে দুর্বল করে দেয়। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড মানুষের অধিকার হরণ করে, সামাজিক বৈষম্য বাড়ায় এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে। তাই মহানবী (দ.) এর শিক্ষা ও আদর্শকে ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব অনাচার থেকে সমাজকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মহানবী (দ.) এর জীবন ছিল ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর আদর্শে ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানুষের অধিকার সংরক্ষণ, দুর্বল ও অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মহানবী (দ.) এর প্রতি ভালোবাসা শুধু মুখের দাবি নয়; তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করাই হতে হবে সেই ভালোবাসার বাস্তব প্রকাশ।
মিলাদুন্নবী (দ.) পালনের তাৎপর্য
আলোচনার একপর্যায়ে তিনি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) পালনের শরয়ী, সাংস্কৃতিক ও ব্যক্তিজীবনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) মহানবী (দ.) এর বিলাদত, মহান জীবন, আদর্শ ও মানবতার জন্য রেখে যাওয়া অমূল্য শিক্ষাকে স্মরণ ও হৃদয়ে ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। মিলাদ মাহফিলের মূল শিক্ষা হওয়া উচিত মহানবী (দ.) এর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণের দৃঢ় প্রত্যয়।
মহানবী (দ.) এর জীবন থেকে সত্যবাদিতা, ক্ষমাশীলতা, দয়া, সৌহার্দ্য, পরোপকার, আমানতদারি ও ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা গ্রহণ করে ব্যক্তিজীবনকে আলোকিত করার আহ্বান জানান তিনি।
পাঠ্যক্রমে মহানবী (দ.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বিষয় অন্তর্ভুক্তির আহ্বান
মুফতি আবুল কাশেম ফজলুল হক দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিশেষত সকল ধারার পাঠ্যক্রমে মহানবী (দ.) এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বিষয়টি যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে মহানবী (দ.) এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ও ভালোবাসা তৈরি করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের কাছে মহানবী (দ.) এর মহান চরিত্র, মানবিকতা, ন্যায়নীতি, শিষ্টাচার ও সমাজকল্যাণের শিক্ষা তুলে ধরা গেলে তারা দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, মহানবী (দ.)-এর আদর্শ কেবল ধর্মীয় জীবনের জন্য নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার পথনির্দেশনা।
মাহফিলে মহানবী (দ.) এর পবিত্র জীবন ও কর্ম, তাঁর প্রতি উম্মতের ভালোবাসা, মিলাদুন্নবী (দ.) এর তাৎপর্য এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।
মাহফিলে নানা শ্রেণি,পেশা ও বয়সের মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মুনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মো. রেজ্জাকুল হায়দার নবিপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবন গঠনের আহবান জানান।
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালা চলছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন করেন।