ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত রাবেয়া খাতুন তাহফিজুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় পবিত্র কোরআন হিফজে সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআনের পূর্ণ হিফজ সম্পন্ন করেছে।
মাদরাসার শিক্ষার্থী মুহাম্মদ মাহিদ হাসান মাত্র ১০ মাস ২৭ দিনে পবিত্র কোরআনের পূর্ণ হিফজ সম্পন্ন করেছে। মাহিদ সোনারগাঁও গ্রামের মুহাম্মদ লিটন মিয়ার ছেলে।
অন্যদিকে, মাদরাসার আরেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল-আলিফ ৯ বছর বয়সে পবিত্র কোরআনের পূর্ণ হিফজ সম্পন্ন করেছে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ের হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে রৌপ্যপদক লাভ করে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে রৌপ্যপদকসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছে।
মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের হিফজ কার্যক্রমে নিয়মিত সবক, আমুখতা, পুনরাবৃত্তি ও পড়া পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীর মেধা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পাঠদান এবং শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হিফজ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি অভিভাবকদের সহযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ও এসব সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রাখছে।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া, মহাপরিচালক আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী মুফতি গোলাম কিবরিয়া এবং সহকারী পরিচালক ক্বারী মুফতি আশরাফ আল-ফারাবী দুই শিক্ষার্থীর সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, পবিত্র কোরআনের হাফেজ তৈরির পাশাপাশি কোরআনের শিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শের আলোকে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
মাহিদ হাসান ও আব্দুল্লাহ আল-আলিফের হিফজ সম্পন্নের খবরে তাদের পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।