সিলেট ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে দরবারে বারীয়া শরীফের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তোহফা – ফর ম্যানকাইন্ড’

“মানুষ মানুষের জন্য”—এই শাশ্বত বাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশজুড়ে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দরবারে বারীয়া শরীফের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তোহফা – ফর ম্যানকাইন্ড’। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রখ্যাত সুফি চিন্তাবিদ মুফতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম বারীর সার্বিক দিকনির্দেশনায় তোহফা রেস্কিউ টিম ও বিভিন্ন জেলা শাখার শত শত স্বেচ্ছাসেবী দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে সমতলের প্রত্যন্ত বানভাসি এলাকায় শুকনো খাবার, রান্না করা উষ্ণ আহার ও জরুরি উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে রেস্কিউ টিমকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ
গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেল থেকে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় যেখানে যা প্রয়োজন, সে অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে ‘তোহফা রেস্কিউ টিম’কে সর্বোচ্চ সক্রিয় ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে থাকা নদী তীরবর্তী ও পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানকারী বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে তোহফা পরিবার।

বান্দরবানে জেলা পরিষদ ও রেড ক্রিসেন্টের সাথে যৌথ প্রয়াস
পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলায় জোরালো ভূমিকা রাখছে ‘তোহফা – ফর ম্যানকাইন্ড’ (বান্দরবান শাখা)। গত ১৬ জুলাই ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বান্দরবান জেলা পরিষদের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বান্দরবান জেলা ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত ত্রাণ কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে সার্বিক সহযোগিতা করেছে তোহফা পরিবার।
বান্দরবান পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত চরম উপদ্রুত এলাকা—ইসলামপুর সুইজগেইট, বনানী স মিল এলাকা এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন এলাকায় পানিবন্দি অসহায় মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। বন্যাকবলিত মানুষের মুখে আহার তুলে দিতে জেলা পরিষদ ও রেড ক্রিসেন্টের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে অংশ নিতে পেরে তোহফা পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

চকরিয়া ও বাঁশখালীর চরম দুর্গম এলাকায় তোহফা রেস্কিউ টিম
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত এলাকায় তোহফার ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
চকরিয়া: গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে চকরিয়ার মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়ন এবং ৭ নং পুরুত্যাখালী এলাকার ৫০০-এর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পক্ষে টানা ৪দিন ধরে তোহফার বিশেষ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বাঁশখালী: এর আগে ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাঁশখালীর মধ্যম সরল ও পশ্চিম মিনজিরীতলার ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মতো চরম দুর্গম ও অবরুদ্ধ এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পৌঁছে যায় ‘তোহফা রেস্কিউ টিম’। স্থানীয়রা জানান, যেখানে এখনো প্রশাসন, মিডিয়া কিংবা উপর মহলের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সহায়তা বা আশ্বাস গিয়ে পৌঁছায়নি, সেখানে তোহফার কর্মীরা পায়ে হেঁটে ও নৌকায় করে দাতাদের পাঠানো পবিত্র আমানত মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিয়েছেন।
চলমান যাত্রা: মাঠপর্যায়ের সর্বশেষ সার্ভে ও তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ১৬ জুলাই তোহফার বিশেষ টিম খানখানাবাদ, ডুমুরিয়া কদম রসুল, কাথরিয়া ও সরল এলাকায় গিয়ে যথাযথ ও সুষম বণ্টনের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী মানুষের ঘরে ঘরে এই তোহফা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে উষ্ণ আহার ও ইউএনও’র উপস্থিতি
সমতলের পাশাপাশি সিলেট ও হবিগঞ্জ অঞ্চলের বন্যা এবং জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘তোহফা – ফর ম্যানকাইন্ড’ (সিলেট শাখা)।
হবিগঞ্জ সদর: গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত ৮:৩০ মিনিটে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার হযরত শাহজালাল (রহ:) উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ৩০টি পরিবারের মাঝে তোহফার সদস্যরা শুকনো খাবার বিতরণ করেন।
বাহুবল ও হাতিরথান: ‘বাহুবল হোম মেড’-এর আন্তরিক সৌজন্যে ১০ জুলাই সিলেটের বাহুবলসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকার প্রায় ৩০০-এর বেশি মানুষের মাঝে রান্না করা দুপুরের উষ্ণ আহার বিতরণ করা হয়। এছাড়া হবিগঞ্জের হাতিরথান (ঠাকুরগাঁও) এলাকায় একটি বড় ধাপে সফলভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও’র অনুপ্রেরণা: ১১ জুলাই বাহুবলসহ বিভিন্ন গ্রামে তোহফার মানবিক কার্যক্রমে সশরীরে উপস্থিত থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ প্রদান করেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যা তোহফার তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটানোর এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা ও মানবসেবার ধারা সর্বদা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছে তোহফা।‌

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত