চট্টগ্রাম ও পার্বত্য বান্দরবান জেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘আন নুসরা ফাউন্ডেশন’। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এবং চলমান দুর্ভোগের এই কঠিন সময়ে সংস্থাটি বিশেষ করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ এবং বান্দরবানের অত্যন্ত দুর্গম এলাকাগুলোতে জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।
বাঁশখালীতে চোখে পড়ার মতো কার্যক্রম ও বৈচিত্র্যময় ত্রাণ
মাঠপর্যায়ের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় আন নুসরা ফাউন্ডেশনের ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম ছিল সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো। বন্যাকবলিত মানুষের তাৎক্ষণিক কষ্ট লাঘবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, গুড়, মোমবাতি এবং জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট মোকাবিলায় বিপুল পরিমাণে সুপেয় পানি এবং দুর্গতদের মাঝে রান্না করা গরম খাবারও সরবরাহ করেছে সংগঠনটি।

মাঠপর্যায়ে দিন-রাত কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা
আন নুসরা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা হাসান আল আজহারী এবং মাওলানা জয়নাল আবেদীন কাদেরীর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই বিশাল ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বড় দল দিন-রাত মাঠপর্যায়ে কাজ করে বন্যার্ত মানুষের জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে অনেক দুর্গম এলাকায় এখনো সরকারি বা বেসরকারি কোনো বড় ধরণের সহায়তা পৌঁছেনি; স্থানীয় কর্মীদের নিরলস সহযোগিতায় আন নুসরা ফাউন্ডেশন মূলত সেইসব অবহেলিত ও দুর্গম এলাকাগুলোকেই অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।

বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলেও মানবিক কার্যক্রম চলমান
চট্টগ্রামের সমতল অঞ্চলের পাশাপাশি পার্বত্য জেলা বান্দরবানের যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও আজ বুধবার (১৫ জুলাই) পর্যন্ত ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সংগঠনটি। পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা এই প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।

পুনর্বাসনের বড় ঘোষণা ও চেয়ারম্যানের আহ্বান
আন নুসরা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক সার্বিকভাবে এই ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই জরুরি মানবিক কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে অব্যাহত থাকবে।
জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে গত ১৪ জুলাই সংগঠনটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীন ও সহায়-সম্বলহীন পরিবারগুলোকে ‘পুনর্বাসন সহায়তা’ দেওয়ার একটি বিশেষ ঘোষণা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে, বন্যাদুর্গত মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবে কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর ভরসা না করে, দেশের বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে দলমত নির্বিশেষে এগিয়ে আসার জোর আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক।