হযরত মাওলানা শাহ্ কারামত আলী সিদ্দিকী জৌনপুরী (রহ.)-এর চতুর্থ আওলাদ এবং ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর ৪১তম বংশধর হিসেবে পরিচিত বিশিষ্ট দ্বীনি ব্যক্তিত্ব আলহাজ হযরত মাওলানা হাসান ইব্রাহিম (আমের) সিদ্দিকী জৌনপুরী (মা.জি.আ.) ছয় মাসব্যাপী বাংলাদেশ সফর শেষ করেছেন।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন তিনি। পরে ১৩ জুলাই একই বিমানবন্দর দিয়ে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ সফরের সমাপ্তি হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হযরত মাওলানা শাহ্ কারামত আলী সিদ্দিকী জৌনপুরী (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি দাওয়াত ও হালকায়ে জিকিরের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নৈতিক ও আত্মিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই ছিল এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিনি ঢাকা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, বরিশাল, ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সফর করেন। এসব এলাকায় খানকা, মসজিদ ও মাদরাসায় বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল, হালকায়ে জিকির, দোয়া মাহফিল ও ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নেন। পাশাপাশি আলেম-উলামা, শিক্ষার্থী, যুবসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সফরকালে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো এলাকায় হালকায়ে জিকির বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য, বিভিন্ন কর্মসূচিতে তরুণদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
সফরের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ ও হাজীরহাটের মাহফিল এবং বরিশালের বৃহৎ ইসলামী সমাবেশের কথা উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।
মাহফিলগুলোতে তাঁর বক্তব্যে তাওহিদের বিশুদ্ধ আকিদা, সুন্নাহর অনুসরণ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, পিতা-মাতার খেদমত, উত্তম চরিত্র গঠন, ইলমে দ্বীন অর্জন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং নিয়মিত জিকিরের গুরুত্ব উঠে আসে। বিশেষ করে যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে ঈমান, ইলম ও আমলের সমন্বয়ে জীবন গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
সফরকালে বিভিন্ন জেলার খানকাগুলোতেও সময় কাটান মাওলানা হাসান ইব্রাহিম সিদ্দিকী জৌনপুরী। সেখানে মুরিদ, ভক্ত ও স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, জিকিরের মজলিস ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে আয়োজিত সমাপনী হালকায়ে জিকিরে স্থানীয় আলেম-উলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ সফরের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় হালকায়ে জিকিরের কার্যক্রম আরও সক্রিয় হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে নামাজ, জিকির-আজকার ও সুন্নাহভিত্তিক জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিশু-কিশোর, তরুণ ও প্রবীণদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
আয়োজক ও ভক্তদের মতে, ছয় মাসের এ সফর ছিল ধারাবাহিক দ্বীনি দাওয়াত ও হালকায়ে জিকিরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। ভবিষ্যতেও মাওলানা হাসান ইব্রাহিম সিদ্দিকী জৌনপুরীর এ ধরনের দাওয়াতি সফর অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।