উপমহাদেশসহ বিশ্বজুড়ে চিশতিয়া তরিকার কোটি ভক্ত-আশেকানের হৃদয়ের স্পন্দন, প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত বাবা ফরিদউদ্দিন মাসুদ গঞ্জেশকর-এর ৭৮৩তম বার্ষিক ওরস শরীফ আজ ৫ মহররম দেশ-বিদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিক আবহের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। ওফাত দিবস বা ওরস শরীফ উপলক্ষে আধ্যাত্মিক জগতের এই মহান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
ঐতিহাসিক ও সুফি গবেষকদের সূত্র অনুযায়ী, হযরত বাবা ফরিদউদ্দিন গঞ্জেশকর ৫৭১ হিজরিতে পাকিস্তানের মুলতানের নিকটবর্তী একটি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। মুলতানে অবস্থানকালেই তৎকালীন প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর সাথে তাঁর ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ হয়। পরবর্তীতে তিনি দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়ে মুর্শিদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চিশতিয়া তরিকায় দীর্ঘ আধ্যাত্মিক সাধনা ও কঠোর প্রশিক্ষণ লাভ করেন।
৬৩৪ হিজরির ৫ই মহররম ৯৫ বছর বয়সে আধ্যাত্মিক জগতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র ওফাত লাভ করেন। তাঁর ওফাতের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত অলৌকিক। ওফাতের দিন তিনি জামায়াতের সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করার পর সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। প্রতিবার জ্ঞান ফেরার পর “আমার আবার আদায় করা উচিত” বলে তিনি অত্যন্ত সচেতনতার সাথে মোট তিনবার মাগরিবের নামাজ সম্পন্ন করেন এবং পরপরই উচ্চস্বরে “ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুম!” জিকির উচ্চারণ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে পাড়ি জমান।
আজ ৫ই মহররম তাঁর পবিত্র ওরস শরীফ উপলক্ষে পাকিস্তানের পাকপত্তনে অবস্থিত তাঁর পবিত্র মাজার শরীফে দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকানের ঢল নেমেছে। দিনভর কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, জিকির-আজকার ও সুফি ভাবধারার আলোচনার মধ্য দিয়ে চিশতিয়া তরিকার এই মহান খলিফার অবদানকে স্মরণ করা হচ্ছে। পরিশেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানবজাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাতের মাধ্যমে ওরসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।