চট্টগ্রামের আধ্যাত্মিক জনপদ বোয়ালখালী উপজেলার আহলা দরবার শরীফে কুতুবুল আকতাব হযরত মাওলানা শাহসূফি কাজী আসাদ আলী (রহ.)-এর ১১১তম পবিত্র ওরস আজ মঙ্গলবার (১২ মে) মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওরস উপলক্ষে দরবার শরীফে হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকান সমবেত হয়েছেন। এই মহান সাধকের ওরস উপলক্ষে বোয়ালখালী উপজেলার নামকরণের সেই ঐতিহাসিক যোগসূত্রটি পুনরায় আলোচনায় এসেছে।
নামকরণের ইতিহাস:
বোয়ালখালী নামকরণের নেপথ্যে যে ঘটনাটি সর্বজনস্বীকৃত, তার মূলে রয়েছেন প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত বুআলী শাহ কলন্দর (রহ.)। লোকশ্রুতি ও ঐতিহাসিক তথ্যমতে, বোয়ালখালীর একটি পাহাড়ের ওপর হযরত বুআলী শাহ কলন্দরের একটি পবিত্র আস্তানা ছিল, যেখানে তিনি দীর্ঘকাল ইবাদত-বন্দেগী ও সাধনায় মগ্ন ছিলেন। কালক্রমে এই আস্তানাটি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেলেও আহলা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত কাজী আসাদ আলী (রহ.) আধ্যাত্মিক শক্তিবলে সর্বপ্রথম এই আস্তানাটি শনাক্ত ও চিহ্নিত করেন।
হযরত কাজী আসাদ আলী (রহ.) কর্তৃক আস্তানাটি চিহ্নিত হওয়ার পর এই জনপদটি ‘বুআলী শাহ’র স্মৃতিধন্য স্থান হিসেবে পরিচিতি পায়। কালক্রমে ‘বুআলী’ শব্দটির অপভ্রংশ বা বিবর্তন হয়ে ‘বোয়াল’ শব্দে রূপান্তরিত হয় এবং এর সাথে ‘খালী’ যুক্ত হয়ে এলাকার নাম হয় ‘বোয়ালখালী’। অর্থাৎ, বোয়ালখালী উপজেলার নামকরণের পেছনে হযরত কাজী আসাদ আলী (রহ.)-এর প্রত্যক্ষ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা অনস্বীকার্য।
প্রশাসনিক থানার ইতিহাস:
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১০ সালের ২৯ আগস্ট এই অঞ্চলটি একটি প্রশাসনিক থানা হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং এর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বোয়ালখালী’ রাখা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।
ওরস ও আজকের কর্মসূচি:
আজ ২৯ বৈশাখ (১২ মে) মঙ্গলবার ওরস উপলক্ষে দিনব্যাপী খতমে কুরআন, জিকির-আজকার এবং ওলামায়ে কেরামগণের অংশগ্রহণে হযরত কাজী আসাদ আলী (রহ.)-এর জীবন ও আধ্যাত্মিক অবদান নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওরসের যাবতীয় কার্যক্রম আহলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহজাদা শাহসূফি সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল-কাদেরী আল-চিশতী (মা. জি. আ.)-এর সার্বিক তদারকিতে পরিচালিত হচ্ছে।
গভীর রাতে মিলাদ-কিয়াম এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে এই আধ্যাত্মিক আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।