পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ফলাফল শিটে ‘ঈদ’ শব্দটি বাদ দেওয়ার ঘটনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিষয়টি অসাবধানতাবশত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি ফলাফল শিটে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে—‘পবিত্র মিলাদুন্নবী (দ.) ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষার্থীদের ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর ফলাফল শীট’।
সেখানে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ শব্দবন্ধের পরিবর্তে শুধু ‘মিলাদুন্নবী (দ.)’ উল্লেখ করা হয়।
ফলাফল শিটে উপস্থিত বক্তৃতা ‘গ’ গ্রুপে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের নাম, অভিভাবকের নাম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতাটি ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে আয়োজিত হলেও ফলাফল শিটের শিরোনামে ‘ঈদ’ শব্দটি রাখা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো ধর্মীয় বিষয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক নথিতে প্রচলিত নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ায় প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
যা বলছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বিষয়টি নিয়ে জানতে সুফিটাইমসের পক্ষ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব মহিউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নোটিশটি মূলত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষেই করা হয়েছিল।
তবে ফলাফল শিটে ‘ঈদ’ শব্দটি বাদ পড়ার বিষয়টি অসাবধানতাবশত হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই কর্মকর্তা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার এই বক্তব্যের পর বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ঈদ’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়, বরং দাপ্তরিক নথি তৈরির সময় অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও দিবসসংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারে আরও সতর্কতা ও সম্পাদনাগত যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ভবিষ্যতে একই ধরনের বিভ্রান্তি বা প্রশ্নের সুযোগ কমবে বলে তাদের মত।