আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (রহ.)-এর জ্ঞানচর্চা, চিন্তাধারা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা (রহ.): কালোত্তীর্ণ এক জ্ঞানসাধক শীর্ষক সেমিনার।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার মিলনায়তনে অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এ সেমিনার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক হাফেজ মুহাম্মদ ফরহাদুল ইসলাম।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের চেয়ারম্যান আল্লামা কাযী মুঈনুদ্দীন আশরাফী । প্রধান অতিথি বলেন, আ‘লা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান একজন শুধুমাত্র আলেম তথা ইসলামী শিক্ষায় পণ্ডিত ছিলেন না, তিনি ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের অনাবিষ্কৃত বিশ্বকোষ। জ্ঞান–বিজ্ঞানের পঁচাত্তরোর্ধ বিষয়ে দেড়সহস্রাধিক মৌলিক গ্রন্থ রচনা করে জগৎবাসীকে সত্যের দিশা দিয়ে গেছেন। বর্তমান বিশ্বের চলমান সংকট থেকে উত্তোরণে ইমাম আহমদ রেজা খানের লেখালেখি মুক্তির পাথেয় হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাফর উল্লাহ্ তালুকদার ও বোটানি বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ আতিক উল্লাহ।
সেমিনারে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপদেষ্টা মুহাম্মদ রাশেদুল বারী।
আলোচকবৃন্দ সৃজনশীল, জ্ঞানময়, মানবিক ও দরদী সমাজ গঠনে আ‘লা হযরত চর্চা আজ সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে হাফেজ মুহাম্মদ ফরহাদুল ইসলাম বলেন, আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (রহ.)-এর বহুমাত্রিক জ্ঞান, ইসলামী চিন্তাধারা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানকে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সামনে উপস্থাপনই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
সেমিনার প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মোহাইমিনুল কবির সামী ও আলী হোসাইন জিসান যৌথভাবে সেমিনার পরিচালনা করে। সেমিনারে অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবীব, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রভাষক কাযী মুহাম্মদ আসিফ আশরাফী, চবি অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্যের উপদেষ্টা মাওলানা নাজিমুল হক, ফয়সাল করিম চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম নেজামী, কো-অর্ডিনেটর আদনান তাহসিন আলমদার, মুহাম্মদ শাহেদুল আলম, সাজেদুল করিম ভূইয়া, আহমদ শাহ্ আদিল।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গবেষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়।