তীব্র প্রতিকূল আবহাওয়া ও অবিরাম বৃষ্টিপাত মাড়িয়ে চট্টগ্রামের বন্যা কবলিত ও পানিবন্দি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ও চ্যারিটেবল সংগঠন ‘দাওয়াতে ইসলামী’র মানব কল্যাণ বিভাগ এফজিআরএফ (ফাইজান গ্লোবাল রিলিফ ফাউন্ডেশন)। ‘সবাই মিলে বন্যার্তদের পাশে থাকি’—এই আহ্বানকে ধারণ করে সংগঠনের একঝাঁক ডেডিকেটেড ভলান্টিয়ার কোমর সমান পানি ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠপর্যায়ে দিন-রাত জরুরি খাদ্য সামগ্রী, সুপেয় পানি ও জরুরি চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।
১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ
দাওয়াতে ইসলামীর এফজিআরএফ-এর স্বেচ্ছাসেবকেরা গতকাল (১৫ জুলাই) পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপদ্রুত এলাকায় বন্যাদুর্গত ও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মোট ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার সফলভাবে সরবরাহ করেছেন। সংগঠনের কর্মীরা জানান, চরম সংকটের এই মুহূর্তে রান্না করার সুযোগ হারানো পরিবারগুলোর ক্ষুধা নিবারণে এই জরুরি খাদ্য সরবরাহ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বাঁশখালীতে ৭ হাজার পরিবার পেল ‘ভালোবাসার সামগ্রী’
চলতি বন্যায় সর্বোচ্চ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এফজিআরএফ বাংলাদেশ। গত কয়েকদিন ধরে চলমান নিরলস অভিযানের ধারাবাহিকতায় বাঁশখালীর ৭ হাজারেরও বেশি অসহায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী, শুকনো খাবার ও ভালোবাসার উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল পশ্চিম ইলশা এলাকাতেই ৮০টি প্রান্তিক পরিবারের মাঝে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়। পুরো বাঁশখালী জুড়ে ধাপে ধাপে প্রায় ৪০০টি পরিবারকে বিশেষ প্যাকেজে শুকনো ও রান্না করা খাবার দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও ফ্রি মেডিসিন
বন্যা পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট মোকাবিলায় বিশেষ নজর দিয়েছে এফজিআরএফ। খাদ্য সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি বন্যাকবলিত দুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ সুপেয় পানি ও জরুরি জীবনরক্ষাকারী মেডিসিন বা ওষুধ সরবরাহ করছেন মাদানি চ্যানেলের কর্মীরা ও এফজিআরএফ-এর স্বেচ্ছাসেবকেরা।
প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর আহ্বান
ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া দাওয়াতে ইসলামীর মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্য সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ দানশীল ব্যক্তিদের প্রতি একটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন— “যারা বন্যাদুর্গতদের সাহায্য করতে আসছেন, তারা দয়া করে মূল সড়কের আশেপাশে না থেকে কষ্ট করে গ্রামের একদম ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করুন। অন্যথায় দেখা যাবে একই লোক বারবার সাহায্য পাচ্ছে, আর যারা একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন তারা সম্পূর্ণ বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন।”
সর্বস্তরের মানুষের প্রতি এফজিআরএফ-এর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
চলমান এই দুর্যোগে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে মজলুম ও অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে আমানত পৌঁছে দিচ্ছে এফজিআরএফ।
বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এফজিআরএফ বাংলাদেশের এই ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে অব্যাহত থাকবে। বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং এই মানবিক অভিযানকে আরও বেগবান করতে বিত্তবানদের এফজিআরএফ-এর মানবিক তহবিলে অনুদান ও যাকাত প্রদানের জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।