৮৪ বছর বয়সে পিএইচডি অর্জন: মিশরের আমাল ইসমাইলের অনুপ্রেরণাময় জীবনের গল্প

 

মিশরের এক নারী প্রমাণ করলেন, স্বপ্ন পূরণের জন্য বয়স কখনো বাধা হতে পারে না। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং আল্লাহর ওপর অটুট ভরসার মাধ্যমে ৮৪ বছর বয়সে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মিশরের আমাল ইসমাইল।

মিশরের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্ম নেয়া আমাল ইসমাইল শৈশবেই পারিবারিক দায়িত্ব ও জীবনের বাস্তবতার কারণে নিয়মিত শিক্ষাজীবন থেকে দূরে সরে যান। পরবর্তীতে সংসার, সন্তান লালন-পালন এবং পারিবারিক দায়িত্বই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের প্রধান অধ্যায়। চার সন্তানের জননী হিসেবে দীর্ঘ সময় তিনি পরিবার গঠনে নিজেকে নিবেদিত রাখেন।

তবে জ্ঞান অর্জনের প্রতি তাঁর আগ্রহ কখনো ম্লান হয়নি। ৩৮ বছর বয়সে তিনি আবারও শিক্ষাজীবনে ফিরে আসেন এবং দীর্ঘ বিরতির পর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে আবারও কিছু সময়ের জন্য পড়াশোনায় বিরতি দিতে হয় তাঁকে।

জীবনের পথচলায় আরও বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হন আমাল ইসমাইল। দু’বার ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং নতুন উদ্যমে জীবনের সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন।

সত্তর বছর বয়সে তাঁর মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের উৎসাহে আবারও শিক্ষাজীবনে ফেরেন তিনি। পরবর্তীতে ভর্তি হন মিশরের আর্টস অনুষদের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে গবেষণার পথে এগিয়ে যান।

অবশেষে ৮৪ বছর বয়সে দীর্ঘ অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রমের ফলস্বরূপ প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন আমাল ইসমাইল। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ক বার্তা।

ইসলামে জ্ঞান অর্জনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মহানবী ﷺ বলেছেন, “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।” (সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস: ২২৪)

আমাল ইসমাইলের জীবনগাঁথা নতুন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানুষের বয়স বাড়তে পারে, কিন্তু স্বপ্নের কোনো বয়স নেই। আল্লাহর ওপর ভরসা, ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং পরিবারের সহযোগিতা থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায় থেকেই নতুন যাত্রা শুরু করা সম্ভব।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত