দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল, ফকির, সন্ন্যাসী এবং ঐতিহ্যবাহী মাজার ও সুফি খানকার ওপর একের পর এক হামলার অভিযোগের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এসব হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার এবং সিআইডিপ্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইসাথে, নাগরিকদের এই সাংবিধানিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, ধর্ম সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার এবং সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে এই রুলের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জালিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ গত বুধবার এই আদেশ দেন। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে আইনি শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুফি সাধক, বাউল ও ফকিরদের ওপর নানামুখী নির্যাতন, তাদের ঐতিহ্যবাহী একতারা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা, আখড়ায় হামলা-ভাঙচুর এবং লালনগীতিসহ আধ্যাত্মিক গান বন্ধের ফতোয়া দেওয়াসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি জোরপূর্বক শত শত বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীর চুল ও মাথার জটা কেটে দেওয়ার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেছে।
সারাদেশে সুফি ঐতিহ্য ও বাউল সংস্কৃতির ওপর এমন পরিকল্পিত হামলায় সংক্ষুব্ধ হয়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও সুফি অনুসারীরা হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটকারীদের মধ্যে রয়েছেন— নারী পক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন পারভীন হক, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক আমেনা মুহসিন, সুরেশ্বর দরবার শরিফের পীরসাহেব হাসান শাহ সুরেশ্বরী দিপু নূরী, অধ্যাপক গীতিআরা নাসরিন, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ এবং প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ানসহ অন্যান্য সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
সুফি ও বাউল সংস্কৃতির অনুসারীরা হাইকোর্টের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নির্দেশের মাধ্যমে দেশের প্রাচীন মাজার, খানকাহ ও বাউল আখড়াগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং শান্তি ও পরমতসহিষ্ণুতার পরিবেশ বজায় থাকবে।