জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

 

আসন্ন ১২ই রবিউল আউয়াল পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (দ.) সফল করার লক্ষ্যে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট-কে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ মোহাম্মদ মনজুর আলম।

আজ ৪ জুলাই ২০২৬ (শনিবার) বাদ আসর ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় চট্টগ্রাম মহানগরের থানা ও ওয়ার্ড, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং আওতাধীন থানা কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেন, “জুলুছসহ আনজুমানের যাবতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের ভাইয়েরা সর্বদা প্রস্তুত থাকে। এবারও আপনারা আপনাদের সর্বোচ্চটা দিবেন বলে আশা করি। জুলুছ খুবই সন্নিকটে, তাই আমাদের এখন থেকেই জোরদার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।”

 

সভায় উপস্থিত আঞ্জুমান, গাউসিয়া কমিটি ও অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। (ছবি: সংগৃহীত)

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের আন্তর্জাতিক সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের মূল দর্শনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, “জুলুছ বা ওরস আমাদের মুখ্য বিষয় নয়। আমাদের মুখ্য ও প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে শিক্ষা নিয়ে। জামেয়াসহ সারাদেশে শত শত দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা সফলতার সাথে পরিচালনা করছি। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের মতো বিশাল ও সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী থাকাতেই আনজুমান এই বিশাল দ্বীনি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম সহজেই সম্পন্ন করতে পারছে। এজন্য আপনাদের আন্তরিক শুকরিয়া আদায় করছি।”

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সামশুদ্দীন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস.এম গিয়াস উদ্দীন (সাকের), ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসাইন খোকন ও মাহমুদ নেওয়াজ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আনজুমান ও কেন্দ্রীয় গাউ‌সিয়া ক‌মি‌টির সদস‌্য ওয়া‌হিদ মা‌লেক, আশফাক আহ‌মেদ ও মুহাম্মদ ইলিয়াছ; আনজুমান সদস‌্য নুরুল আ‌মিন ও আর. ইউ চৌধুরী শাহীন; দা’ওয়াতে খায়র স্ট্যান্ডিং কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান আলকাদেরী, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার, মু’আল্লিম মাওলানা মুহাম্মদ হাসান কাদেরী এবং গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ।

সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তসমূহ:
বিগত বছরের জশনে জুলুছের পর্যালোচনার পাশাপাশি সুফি ঘরানার এই বৃহৎ মতবিনিময় সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:
যাকাত-ফিতরা পুরস্কার: যাকাত-ফিতরা কালেকশনের গতিশীলতা বাড়াতে এবারও বিশেষ পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
রসিদ বই গ্রহণ: রসিদ বই সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্ব স্ব থানা কমিটির অফিশিয়াল প্যাডে লিখিত আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ডিজিটাল প্রচারণায় সতর্কতা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (Social Media) সংবাদ বা যেকোনো কনটেন্ট প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাসিক তরজুমান: আনজুমানের মুখপত্র ‘মাসিক তরজুমান’-এর প্রচার ও প্রসার আরও বৃদ্ধি করার তাগিদ দেওয়া হয়।
এক ব্যক্তি এক পদ: সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ব্যক্তি দুয়ের অধিক কমিটিতে থাকতে পারবেন না; যেকোনো একটি কমিটিতে সুনির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকবেন।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: সর্বোপরি আনজুমান ও গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং তা যথাযথ বাস্তবায়নে সবাই বাধ্য থাকবেন।

যৌথ সভার শেষভাগে সংশ্লিষ্ট সকলের ইহকালীন ও পরকালীন মঙ্গল এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান আলকাদেরী।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত