নীলফামারীর সৈয়দপুরে দিনব্যাপী এক বিশাল চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়েছেন ৬ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত ও সাধারণ রোগী। আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের উদ্যোগে এবং দিনাজপুর গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হসপিটালের সহযোগিতায় আজ ২০ জুন (শনিবার) শহরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে চোখ পরীক্ষা শেষে শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া চক্ষু বিশেষজ্ঞ দল দিনভর আগত সাত শতাধিক রোগীর চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন এবং বিনামূল্যে চশমা ও জরুরি ওষুধ বিতরণ করেন। গাউসুল আযম বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল এই চিকিৎসা ক্যাম্পে নিরলসভাবে সেবা প্রদান করেন।
এর আগে সকালে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মানবিক ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি হাজী মো. তাসলিম আশরাফী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার এবং সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী মিসবাহী, পারভেজ আলম গুড্ডু আশরাফী, নাদিম আশরাফী, খালিদ আযম আশরাফি, আসিফ আশরাফী, ইরফান আশরাফী, সৈয়দ আব্দুল্লাহ পাপ্পু বাখশি এবং তৌসিফ রেজা আশরাফি প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী এই চক্ষু ক্যাম্পে শুধু সৈয়দপুর শহরই নয়, বরং নীলফামারীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষেরা তাদের চোখের বিভিন্ন জটিল সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন।
ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক প্রবীণ ও সাধারণ মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, অর্থাভাব এবং যাতায়াতসহ নানা পারিবারিক সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা চোখের সঠিক চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাড়ির কাছে এমন উন্নত মানের চিকিৎসাসেবা, চশমা ও ওষুধ পেয়ে এই আয়োজনকে তারা নিজেদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।
আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি হাজী মো. তাসলিম আশরাফী জানান, সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও প্রবীণ রোগীদের দোরগোড়ায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়াই ছিল তাঁদের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আগামীতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এমন মানবিক ও দ্বীনি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এলাকার সর্বস্তরের সুধী সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা আঞ্জুমানে গাউসিয়ার এই মহতী উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।