নবগঠিত গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ, আল-আযহার ইউনিভার্সিটি শাখার উদ্যোগে কায়রোতে পবিত্র শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল এবং গাউসে জামান হাফেজ কারী সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.)-এর পবিত্র ওরস শরীফ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নিখুঁত শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিক আবহে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গত ১৯ জুন, রোজ শুক্রবার বাদ মাগরিব পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই নুরানি মাহফিলের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর শোহাদায়ে কারবালার স্মরণে এবং গাউসে জামানের শানে শরিফাতুন্নবী ও আউলিয়া কেরামের শানে হামদ, নাত, গজল ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি কারবালার বেদনাবিধুর ঐতিহাসিক ঘটনা এবং আহলে বাইতের মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণে পরিবেশিত বিভিন্ন পর্ব উপস্থিত সর্বস্তরের শ্রোতাদের মধ্যে গভীর আবেগ সৃষ্টি করে।
মাহফিলে উপস্থিত ওলামায়ে কেরাম কারবালার মূল শিক্ষা, আহলে বাইতের প্রতি পরম ভালোবাসা এবং ইসলামের শাশ্বত রূপ রক্ষায় তাঁদের অনন্য ত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করেন। একইসঙ্গে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম মহান সংস্কারক গাউসে জামান হাফেজ কারী সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.)-এর বিশ্বব্যাপী দ্বীনি, তরিকত ও আধ্যাত্মিক অবদান এবং সমসাময়িক বিশ্বে তাঁর প্রদর্শিত সুফি আদর্শ অনুসরণের গুরুত্বও বক্তারা তুলে ধরেন।
আল-আযহার ইউনিভার্সিটি শাখার নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা নিজাম উদ্দিন আল আযহারীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা কাজী শামসুদ্দিন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব রাকিন জাফরির যৌথ সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত আল-আযহারের উপদেষ্টা মণ্ডলী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ, মানবিকতা, নৈতিকতা এবং ইসলামের মূলধারা তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শকে মনে-প্রাণে ধারণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আযহার ইউনিভার্সিটি শাখার নবগঠিত এই কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে কায়রোতে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, সর্বস্তরের শুভানুধ্যায়ী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে এক মিলনমেলায় পরিণত করে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আজিজুর রহমান আল আযহারী।