কিশোরগঞ্জের ভৈরবে “শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রশিক্ষণকেন্দ্র” থেকে ২৫ জন নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান

 

সমাজের পিছিয়ে থাকা ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ২৫ জন নারীর মাঝে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণের সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার ঈদগাহ রোডস্থ আগানগর এলাকার গকুলনগর বাজারে অবস্থিত “শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রশিক্ষণকেন্দ্র”-এ নারী উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়।

প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর গাউসিয়া হক মনজিলের “শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট” নিয়ন্ত্রণাধীন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ‘যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড’-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাকাতভিত্তিক মানবকল্যাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং তাদের জন্য আয়বর্ধক সুযোগ সৃষ্টি করাই এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।

গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে এই প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা। সেলাই কাজ শিখে তারা এখন আত্মকর্মসংস্থানের নতুন স্বপ্ন দেখছেন। অনেকেই জানান, এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার পাশাপাশি নিজেদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন তারা। অজপাড়া গ্রাম থেকে আসা এক প্রশিক্ষণার্থী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা গ্রামের মেয়েরা আগে ঘরের কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলাম। এখন সেলাই শিখে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি। এই প্রশিক্ষণ আমাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে দক্ষতার সনদপত্র তুলে দেন প্রশিক্ষক সুরমা বেগম, কিবরিয়া চেরাগী, আবুল কালাম ও বাদল মিয়া। এ সময় তাঁরা প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান। “দক্ষ নারী, সমৃদ্ধ পরিবার; সমৃদ্ধ পরিবার, উন্নত সমাজ”—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর এই ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত