আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দুয়ার আরও সহজ ও আধুনিক করতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছে মিশরে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও বিখ্যাত ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীরা নিজ দেশে অবস্থান করেই অনলাইনের মাধ্যমে আল-আজহারের মূল ক্যাম্পাস থেকে ইসলামিক বিষয়ে অনার্স বা স্নাতক সম্পন্ন করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন “ফ্যাকাল্টি অব ইসলামিক অ্যান্ড অ্যারাবিক স্টাডিজ ফর ওভারসিজ স্টুডেন্টস” (Faculty of Islamic and Arabic Studies for Overseas Students)-এর মাধ্যমে বিশেষ এই আন্তর্জাতিক অনলাইন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষার এক নতুন ও আধুনিক দিগন্ত:
শিক্ষাবিদ ও সুফি গবেষকদের মতে, বৈশ্বিক অঙ্গনে শুদ্ধ ইসলামী শিক্ষার প্রচার-প্রসার এবং সুফি দর্শনের ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দিতে এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বিশেষ করে যেসব প্রতিভাবান শিক্ষার্থী প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা, পারিবারিক পরিস্থিতি কিংবা জটিল ভিসাজনিত প্রক্রিয়ার কারণে সরাসরি মিশরে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন না, এই অনলাইন ব্যবস্থা তাঁদের জন্য স্বপ্নের আল-আজহারে পড়ার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করল।
নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ ও ‘অ্যারাবিক’ বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করতে পারবেন। কোর্স সফলভাবে শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল সনদও প্রদান করা হবে।
অনলাইন ও অফলাইনের চমৎকার সমন্বয়:
ঐতিহাসিক এই উদ্যোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ফ্যাকাল্টির সম্মানিত ডিন ড. নাহলা সাইদী বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য আল-আজহারের জ্ঞানসমুদ্রে অবগাহন করার সুযোগকে আরও সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্যেই এই সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”
তিনি এই শিক্ষা পদ্ধতির নমনীয়তা উল্লেখ করে জানান, শিক্ষার্থীরা চাইলে তাঁদের সুবিধার্থে কয়েকটি মডেলে এই কোর্সটি সম্পন্ন করতে পারবেন:
১. প্রথম দুই বছর নিজ দেশে সম্পূর্ণ অনলাইনে এবং পরবর্তী দুই বছর মিশরের মূল ক্যাম্পাসে অফলাইনে পড়াশোনা করা যাবে।
২. অনলাইন ও অফলাইনের মিশ্র সমন্বয়ে (Hybrid Model) কোর্স সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে।
৩. অথবা, কোনো শিক্ষার্থী চাইলে পুরো চার বছরের অনার্স কোর্সটি সম্পূর্ণ নিজ দেশে বসে অনলাইনের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে পারবেন।
বাংলাদেশের আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ:
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশের কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ‘আলিম’ কিংবা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত সমমানের প্রতিষ্ঠানের সুন্নি ও ইসলামিক স্কলারশিপের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই এই কোর্সে আবেদন ও সরাসরি ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মতে, এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আল-আজহারের উচ্চশিক্ষাকে সহজলভ্যই করবে না, বরং মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ ইসলামী চিন্তাধারার প্রসারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের সঙ্গে আল-আজহারের প্রাতিষ্ঠানিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।