মিশরের রাজধানী কায়রোর ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক ইমাম হুসাইন (রা.) মসজিদে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে “আন্তর্জাতিক ইসলামী ভাবধারা সম্মেলন”। আজ সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মূল আকর্ষন ছিল হাদীস শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান গ্রন্থ সহীহ বুখারীর “কিতাবুল আদব” (শিষ্টাচার অধ্যায়)-এর ওপর বিশেষ ব্যাখ্যামূলক আলোচনা সভা।
বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শীর্ষস্থানীয় আলেম, গবেষক, শিক্ষক, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও সাধারণ ইসলামপ্রেমী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণে এক অভূতপূর্ব আধ্যাত্মিক ও জ্ঞানসমৃদ্ধ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য ও মধ্যপন্থী ইসলামের আহ্বান:
মহতী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশরের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট সুফি গবেষক ড. ওসামা আল-আযহারী। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইসলামের মূল সৌন্দর্য, সুউচ্চ নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং মধ্যপন্থী (ওয়াসাতিয়্যাহ) চিন্তাধারার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইসলামী জ্ঞানচর্চার সঠিক পদ্ধতি এবং সুস্থ চিন্তার প্রসারে তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি সম্পৃক্ত ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নববী শিষ্টাচার ও সমাজ গঠনের গুরুত্ব:
সম্মেলনের মূল অধিবেশনে সহীহ বুখারীর “কিতাবুল আদব” থেকে নির্বাচিত হাদীসসমূহের আলোকে মুসলিম সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, উত্তম শিষ্টাচার, মার্জিত আচরণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর ও তাত্ত্বিক আলোচনা উপস্থাপন করা হয়। আমন্ত্রিত বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশৃঙ্খল পৃথিবীতে আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও ভারসাম্যপূর্ণ সুফি সমাজ গঠনে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ, আখলাক ও সুফি দর্শনের কোনো বিকল্প নেই।
আখেরী মোনাজাত:
সম্মেলনের সমাপনী পর্বে মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় ঐক্য, ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বের মজলুম মানবতার মুক্তি, বিশ্বশান্তি এবং সমগ্র মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও দীর্ঘ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। গভীর ভাবাবেগপূর্ণ এই মোনাজাতের মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে আন্তর্জাতিক এই দ্বীনি মহাসম্মেলনের।