রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক সুফি সাধক হযরত শাহ আলী বাগদাদীর মাজারে ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানাতে এবং সাধারণ ভক্তবৃন্দের পাশে দাঁড়াতে মাজার শরিফ পরিদর্শন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে নেতৃবৃন্দ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি করেন।
ষড়যন্ত্র ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি:
মাজার পরিদর্শনকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানাতে এবং মাজারের ভক্তবৃন্দের পক্ষে দাঁড়াতে আমরা এখানে এসেছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমল থেকে আমরা লক্ষ্য করছি যে, দেশি-বিদেশি নানা কুচক্রী মহল বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে মাজারে হামলা শুরু করেছে। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, অতীতে ঘটে যাওয়া এই হামলাগুলোর কোনো সুনির্দিষ্ট বিচার বা দৃশ্যমান শাস্তি হয়নি। আর এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাতেই ঢাকার অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক কেন্দ্র শাহ আলীর মাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন হামলা চালানো হয়েছে।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা:
হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সারোয়ার তুষার বলেন, “হামলার ঘটনায় আমরা পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করেছি। উপরন্তু, পত্র-পত্রিকায় পুলিশের যে বক্তব্য আমরা দেখেছি তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তারা এই হামলাকে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’-এর অংশ বলে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছে। আমাদের স্পষ্ট প্রশ্ন—যদি মাদকবিরোধী অভিযান চালাতেই হয়, তবে তার জন্য পুলিশ ও প্রশাসন আছে। পুলিশ প্রশাসনের বাইরে তারা কারা, যারা এখানে এসে সাধারণ ভক্তবৃন্দের ওপর হামলা করল এবং মা-বোনদের শারীরিকভাবে আক্রমণ করল? প্রশাসনের এমন অসংলগ্ন বক্তব্য ও আচরণ থেকেই স্পষ্ট যে, পুলিশ প্রকারান্তরে এই হামলাকে প্রশ্রয় দিয়েছে।”
স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি:
জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে মাজার সুরক্ষায় ও হামলা বন্ধে সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে বলা হয়, গত দেড় বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাজারে যতগুলো হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার প্রত্যেকটির সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে, এই দীর্ঘ সময়ে মাজারগুলোর ওপর হওয়া ধারাবাহিক হামলাগুলোর নেপথ্যে কারা দায়ী এবং কী উদ্দেশ্য ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খুঁজে বের করতে একটি ‘স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ গঠন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি ও ভক্তদের পাশে থাকার ঘোষণা:
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি পরবর্তীতে আবারো কোনো মাজারে বা ভক্তদের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে সাধারণ ভক্তবৃন্দ ঘরে বসে থাকবে না; তারা নিজেদের সুরক্ষায় শক্তভাবে তা প্রতিরোধ করবে। আর এই প্রতিরোধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যদি মাজারের শান্তিপ্রিয় ভক্তদের ওপর সরকার কোনোভাবে জুলুম বা নিপীড়ন চালানোর চেষ্টা করে, তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সব সময় মাজারের ভক্তবৃন্দের পক্ষেই শক্ত অবস্থান নিবে।”
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
মাজার পরিদর্শনের সময় সারোয়ার তুষারের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের সম্পাদক তারেকুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য-সচিব এডভোকেট হুমায়রা নূর, যুগ্ম সদস্য-সচিব ফরিদুল হক, শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য-সচিব প্রীতম দাশ, নেত্রকোনা জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য-সচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।