মিরপুরে হযরত শাহ আলী বাগদাদীর মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা: মাজার সুরক্ষায় সরকারের কাছে মাকামের ৫ দাবি

 

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক সুফি ব্যক্তিত্ব হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.)-এর মাজারে ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম’। হামলার সাথে জড়িত ও নেপথ্যের উসকানিদাতাদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের মাজার, দরগাহ ও খানকাহগুলোর দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় সরকারের নিকট ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে মিরপুর মাজার শরিফে সহিংস হামলা চালায়। তারা মাজারে অবস্থানরত নারী ও ফকিরদের মারধর করে এবং ভেতরের আসবাবপত্র ও মোমবাতি ভাঙচুর করে।

 

মাকাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, এই আসনের (ঢাকা-১৪) সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম হামলার নিন্দা না করে একে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ বলে ন্যায্যতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন, যা একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর এই বক্তব্য মাজার ও খানকায় ধারাবাহিক হামলাকে আরও উৎসাহিত করবে।

 

হামলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসংলগ্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার একে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান বললেও, দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল পুলিশের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে একে জামায়াত-শিবিরের ব্যক্তিগত উদ্যোগের অভিযান বলে উল্লেখ করেছেন। পুলিশের এমন সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য হামলাকারীদের প্রকারান্তরে আড়াল ও উৎসাহিত করবে বলে মনে করে মাকাম।

 

বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) পঞ্চদশ শতকে বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলায় আসা বৃহত্তর ঢাকার অন্যতম প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ সুফি সাধক। ১৪৮০ সালে নির্মিত তাঁর দরগাহ সংলগ্ন মসজিদটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য অসামান্য।

মাকামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে এ পর্যন্ত ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৩ জন নিহত ও ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন। অথচ বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও দৃশ্যমান গাফিলতির কারণেই এই ধারাবাহিক হামলা থামছে না।

 

মাকামের উত্থাপিত ৫ দফা দাবি:
মাজারে হামলার ঘটনা রোধ এবং সুফি সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অবিলম্বে সুফি-সমাজের মতামতের ভিত্তিতে ‘মাজার, দরগাহ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা’ প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়ে মাকাম ৫টি প্রধান দাবি পেশ করেছে:
১. মাজার ও দরগাহ সুরক্ষায় অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা।
২. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, সুফি সমাজের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে “জাতীয় মাজার, দরগাহ সুরক্ষা কমিটি” গঠন করা।
৩. এই কমিটির আওতায় অতীতে হামলার শিকার হওয়া দেশের সকল মাজার ও খানকাহর সরকারি তালিকা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
৪. মাজারে হামলার ঘটনায় অদ্যাবধি যত মামলা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
৫. বাংলাদেশের সকল দরবার ও খানকাহকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের আওতায় এনে তাদের কার্যক্রমে সার্বিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

মাকাম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বিনষ্ট হওয়া ধর্মীয় সহাবস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ পুনর্গঠনে এই ৫টি দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরী।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত