গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) আনুমানিক রাত ১১:৩০ মিনিটের দিকে ঢাকার মিরপুরে ঐতিহাসিক হযরত শাহ আলী বাগদাদীর মাজারে হামলা চালানো হয়। হামলায় মাজারে থাকা ফকিরদের মারধর, নারী ভক্তদের শারীরিকভাবে আক্রমণ ও মাজার সংলগ্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়, রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার পর ২০-২৫ জনের একটি দল মাজার এলাকায় অতর্কিত প্রবেশ করে। তারা মাজারের ভেতরে থাকা নারী ও সাধারণ ভক্তদের লক্ষ্য করে গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে মারধর করে। হামলাকারীরা মাজারের পবিত্রতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ভেতরের আসবাবপত্র ও মোমবাতি ভাঙচুর করার চেষ্টা চালায়। তবে উপস্থিত ভক্ত ও আশেকানদের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে তারা মাজারের মূল অংশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় এমপির সঙ্গে কথোপকথন
এই বিষয়ে মতামত সংগ্রহ করতে ঢাকা-১৪ এলাকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ওয়ান ম্যান নিউজরুম (One-man Newsroom)। সংবাদ মাধ্যমটি সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, তিনি ফৌজদারি অপরাধকে নিন্দা বা নেতিবাচক অর্থে না দেখে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’, ‘সাদা পোশাকে অভিযান’ ইত্যাদি বলে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।
“হামলাকারীদের দাবি, তারা স্থানীয় এমপির নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালনা করছে, এমন কোনো নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন কি-না” এই প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম বলেন, “না, এমন কোনো নির্দেশনা নেই। বরং আমাকে পুলিশ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা করছে। এখন সারাদেশেই নির্দেশনা আছে, পার্কে মাদকসেবী (বিরুদ্ধে) রাতে সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালিত হবে। মিডিয়াতে বলবে না, মিডিয়া বললে (জিজ্ঞেস করলে) স্বীকার করবে না।”
কথোপকথনের একপর্যায়ে এমপি বলেন, “এখানে মাদকের সমস্যা খুবই প্রকট। ওখানকার বাসিন্দারা রাতে গান বাজনা পছন্দ করেন না, কমপ্লেইন করেন। বাসিন্দারা রেগুলার কমপ্লেইন করেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ, রাতে যেন এমন কিছু না হয়, সেই ইন্সট্রাক্টশনের পার্ট এটা।”
কথোপকথনের শেষপর্যায়ে তিনি বলেন, “সারাদেশে যে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা হচ্ছে তারই অংশ এটি।”
উল্লেখ্য যে, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ওয়ান ম্যান নিউজরুম (One-man Newsroom) প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে, কথোপকথনের কোনো পর্যায়েই ‘হামলা’, ‘ফৌজদারি অপরাধ’, ‘প্রশাসনিক ব্যবস্থা’ ইত্যাদির কথা উল্লেখ করতে দেখা যায়নি ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমকে।