ইন্ডিয়ার কর্ণাটকের কালবুরগিতে পালিত হচ্ছে হযরত খাজা বন্দে নেওয়াজ গেসু দরাজ’র ৬২২তম ওরস শরীফ

 

ইন্ডিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত খাজা বন্দে নেওয়াজ গেসু দরাজ (রহ.)-এর ৪ দিনব্যাপী ওরস মোবারক অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে। ওরস শরীফের প্রধান অনুষঙ্গ ‘সন্দল যাত্রা’ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দরগাহ শরীফে এসে পৌঁছেছে।

ঐতিহাসিক এই শোভাযাত্রাটি মাজার শরীফের গর্ভগৃহে প্রবেশের ১১টি ধাপ বা ‘গিয়ারা সিড়ি’তে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। মিছিলের সাথে আনা পবিত্র চন্দন বা সন্দল পেস্ট সোমবার সুবহে সাদিকের সময় দরবেশের মাজারে লেপন করা হবে, যা ওরস শরীফের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং আধ্যাত্মিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। বাহমানি সালতানাতের শাসক আহমেদ শাহ ওয়ালী বাহমানির নির্মিত এই ঐতিহাসিক মাজার ও দরগাহ শরীফকে মূল অনুষ্ঠান উপলক্ষে অত্যন্ত নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে।

হযরত খাজা বন্দে নেওয়াজ গেসু দরাজ ছিলেন দক্ষিণাত্যের অন্যতম জনপ্রিয় সুফি সাধক। তাঁর প্রভাব কেবল ধর্মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা এই অঞ্চলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও গভীরভাবে প্রোথিত। চিশতিয়া তরীকার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি ভালোবাসা, উদারতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জীবনদর্শনের শিক্ষা দিয়েছেন। বিভাজনের সেই সময়েও তিনি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তিনি ভারতজুড়ে সুফিবাদের বাণী ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আধ্যাত্মিক ধারণাগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করার জন্য তিনি ফারসি, আরবি এবং প্রাচীন ‘দখিনী উর্দু’ ভাষায় অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর এই লেখনী কেবল ধর্মতত্ত্ব নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশেও অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছে।

বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা এবং নীতিশাস্ত্রের ওপর তাঁর অমূল্য লেখনী আজও অসংখ্য অনুসারীকে সঠিক পথের দিশা দিচ্ছে। তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে আদর্শ প্রচার করেছেন, তা আজও কালবুরগির দরগাহ শরীফে প্রতিফলিত হয়। বর্তমানে তাঁর দরগাহটি সব ধর্মের মানুষের কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিদিন সব সম্প্রদায়ের ভক্তরা ভিড় জমান।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত