২৪ দেশের ৩০০ কবিকে এক মঞ্চে এনে ‘মিনারাতুল আশআর’: বিশ্বব্যাপী আল-আজহারের আরবি ভাষা ও সংস্কৃতির বার্তা

‘মিনারাতুল আশআর’ আরবি কবিতা প্রতিযোগিতার পঞ্চম আসরে ফিলিস্তিনকে কেন্দ্র করে অংশ নিলেন ২৪ দেশের ৩০০-এর বেশি কবি ও সাহিত্যিক।

আল-আজহারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরবি ভাষা ও কবিতার প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা এবং প্রতিভাবান কবি ও সাহিত্যিকদের বিকাশে ‘মিনারাতুল আশআর’ আরবি কবিতা প্রতিযোগিতার পঞ্চম আসরের বিজয়ীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আল-আজহার শায়খের প্রবাসী শিক্ষার্থী বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নাহলা আল-সাঈদি বলেন, অন্যভাষীদের আরবি ভাষা শিক্ষা দেওয়া আল-আজহারের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক ও সভ্যতাগত দায়িত্ব। কারণ আরবি পবিত্র কুরআনের ভাষা এবং ওহি, ইসলামী ঐতিহ্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের গভীরতা অনুধাবনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

তিনি বলেন, এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে আল-আজহার আরবি ভাষার জ্ঞান সংরক্ষণ এবং কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে আসছে। আরবি ভাষাকে শুধু একটি ভাষা হিসেবে নয়, বরং দ্বীনের জ্ঞান, চিন্তার পরিশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে আল-আজহার।

অধ্যাপক নাহলা আল-সাঈদি জানান, গত পাঁচ বছরে আল-আজহার ৮৩টি দেশের ৮ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থীকে গ্রহণ করেছে। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৪৬ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৪২৫ জন ছাত্রী। এ সময়ে আল-আজহারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২৮ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষার্থী লেভেল নির্ধারণী পরীক্ষায় অংশ নেন। পাশাপাশি অনলাইন লেভেল নির্ধারণী পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ হাজার ১৩৯ জন।

তিনি আরও জানান, দূরশিক্ষণ কার্যক্রমে ১৭ হাজার ২৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। বিশ্বের ৩৫টি দেশে ৮০টি ইলেকট্রনিক ক্লাসরুমের মাধ্যমে ৮০ জন শিক্ষক সরাসরি পাঠদান করছেন। এছাড়া অ-আরবিভাষীদের আরবি শেখানোর জন্য ‘আত-তুহফাতুল আজহারিয়্যাহ’ সিরিজের ১ লাখ ১২ হাজার কপি বই মুদ্রণ করেছে আল-আজহার।

‘মিনারাতুল আশআর’ প্রতিযোগিতা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি প্রবাসী শিক্ষার্থীদের প্রতিভা আবিষ্কার ও বিকাশের পাশাপাশি শুদ্ধ আরবি ভাষা ও ধ্রুপদি আরবি কবিতার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রতিযোগিতার পঞ্চম আসরে ২৪টি দেশ থেকে ৩০০-এর বেশি কবি ও সাহিত্যিক অংশগ্রহণ করেন।

এবারের প্রতিযোগিতায় মিসর, মরক্কো, জর্ডান, আলজেরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, তিউনিসিয়া, লেবানন, সিরিয়া, সৌদি আরব, ফিলিস্তিন, সুদান, সোমালিয়া, চাদ, গিনি, মালি, নাইজেরিয়া, তানজানিয়া, গাম্বিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে কবি ও সাহিত্যিকরা অংশ নেন।

প্রতিযোগিতার পঞ্চম আসরে ‘নবীদের ভূমি ও প্রতিরোধ’ প্রতিপাদ্যে ফিলিস্তিনকে কেন্দ্র করে কবিতা ও সাহিত্যিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত বিষয়গুলো তুলে ধরা, ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সত্য ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে কবিতার শক্তিকে কাজে লাগানোর বার্তা দেওয়া হয়।

অধ্যাপক নাহলা আল-সাঈদি বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ২৪টি দেশের কবিদের একত্রিত হওয়া প্রমাণ করে, আরবি ভাষা বিভিন্ন জাতি ও জনগোষ্ঠীকে সত্য, ন্যায় ও সৌন্দর্যের মূল্যবোধে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আল-আজহার তার বৈশ্বিক মিশনের অংশ হিসেবে প্রতিভা লালন, সংস্কৃতির মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মধ্যপন্থা ও শান্তির দূত হিসেবে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

আল-আজহারের বার্তা স্পষ্ট: জ্ঞান শিক্ষা, আরবি ভাষার সংরক্ষণ, প্রতিভার বিকাশ এবং প্রবাসী শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ দেশে জ্ঞান, মধ্যপন্থা ও শান্তির দূত হিসেবে গড়ে তোলাই এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত