সিলেটের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু, ওলি-কুলের শিরোমণি সুলতানে বাঙ্গাল হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ৭০৭তম বার্ষিক ওরস শরীফ আগামীকাল ৭ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই আধ্যাত্মিক মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে মাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার আশেক ও ভক্ত ইতিমধ্যেই আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে সমবেত হতে শুরু করেছেন।
প্রধান আকর্ষণ ও কর্মসূচি:
ওরস শরীফের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামীকাল সকালে পবিত্র গিলাফ চড়ানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। দিনব্যাপী খতমে কুরআন, মিলাদ মাহফিল এবং জিকির-আসকারের মাধ্যমে দরগাহ প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকবে। ওরসের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ৭ মে দিবাগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এই মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করা হবে। মোনাজাত শেষে উপস্থিত ভক্তদের মাঝে তবারক বিতরণের মাধ্যমে ওরসের সমাপ্তি ঘটবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপহার ও প্রশাসনিক তদারকি:
ওরস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই উপহার হিসেবে একটি গরু মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মাজার এলাকার চলমান উন্নয়ন কাজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করছেন। ভক্তদের যাতায়াত ও অবস্থান নির্বিঘ্ন করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ পানির ব্যবস্থা ও আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
লাখো ভক্তের সমাগম বিবেচনায় নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) মাজার ও আশেপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। মাজার এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, তল্লাশি চৌকি এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ থেকে ওরস চলাকালীন নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ রুট ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
মাজার কর্তৃপক্ষের আহ্বান:
মাজারের মোতওয়াল্লী সরেকওম ফতেউল্লাহ আল আমান জানিয়েছেন, ওরসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আগত সকল ভক্ত ও আশেকানকে দরগাহ শরীফের পবিত্রতা রক্ষা করে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আধ্যাত্মিক এই মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেট নগরীতে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।