মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো মিশরেও সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানী কায়রোসহ মিশরের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহাসিক মসজিদ ও খোলা ময়দানে লাখো মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মাধ্যমে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান ত্যাগের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে স্মরণ করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এদিকে মিশরের বিশ্ববিখ্যাত আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি সুফি ভাবধারার শিক্ষার্থীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ, মিশর শাখা”-এর উদ্যোগে ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য কোরবানির আয়োজন করা হয়। প্রবাসের মাটিতে সুফি আদর্শের মূল শিক্ষা—মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ ফুটিয়ে তুলতে সংগঠনের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আজহায় একটি গরু ও একটি খাসির পাশাপাশি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে একটি উট কোরবানি দেওয়া হয়।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, প্রবাস জীবনে পরিবার-পরিজন থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থানরত ছাত্র ভাইদের মাঝে ঈদের প্রকৃত আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং সুফি ঘরানার ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই বৃহৎ আয়োজন করা হয়ে থাকে।

কায়রোতে অবস্থানরত আল-আযহারের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সময় এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রস্তুতকৃত কোরবানির তবারক ও মাংস আল-আযহারে অধ্যয়নরত কয়েক শতাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় দুস্থ ও সাধারণ মানুষের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ করা হয়।

সংগঠনের দায়িত্বশীল সুফি স্কলাররা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, “প্রবাস জীবনে পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপনে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা দূর করে শিক্ষার্থীরা যেন সবাই একসাথে একটি পরিবারের মতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই নিরলস প্রচেষ্টা। তাসাউউফ বা সুফি দর্শনের মূল শিক্ষাই হলো কোরবানি কেবল পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি নিজের নফস বা অহংকার ত্যাগ, তাকওয়া এবং মানবপ্রেমের এক মহান পাঠ।”
ঐতিহাসিক আল-আযহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মহতী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা আয়োজকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা আশা ব্যক্ত করেন যে, প্রবাসের মাটিতে সুফি সংস্কৃতির উদারতা ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ভবিষ্যতেও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’র আলেমদের এই ধরনের মানবিক, তরিকতপন্থী ও ধর্মীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।