পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সাইয়্যেদুনা ইমাম হোসাইন ইবনে আলী (রা.) এবং আহলে বাইতের পবিত্র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে মিশরের কায়রোতে এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, আল-আজহার ইউনিভার্সিটি শাখার উদ্যোগে কায়রোর ঐতিহাসিক ইমাম হোসাইন (রা.) মসজিদ ও দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে পথচারী, মুসল্লি, জিয়ারতকারী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সুশীতল শরবত ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়।
দিনব্যাপী চলা এই সেবামূলক কর্মসূচিতে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও সাধারণ সদস্যগণ অত্যন্ত আন্তরিকতা ও উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করেন। কায়রোর প্রচণ্ড তাপদাহ ও গরমের মধ্যে দরবারে আগত হাজারো তৃষ্ণার্ত মানুষের হাতে শরবত ও বিশুদ্ধ পানি তুলে দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণরা আরব বিশ্বে মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
মরুভূমির এই তীব্র গরমে তৃষ্ণার্তদের মাঝে শরবত বিতরণের মহতী আয়োজনে সুদূর বাংলাদেশ থেকে আর্থিক স্পন্সরশিপ বা সহযোগিতা প্রদান করেন গাউসিয়া কমিটির সম্মানিত সদস্য মাহফুজুর রহমান। তিনি তাঁর মরহুমা মাতার পবিত্র ঈসালে সওয়াব ও পরকালীন উচ্চ মাকাম কামনার নিয়তে এই অর্থায়ন করেন। তাঁর এই দ্বীনি ও মানবিক অংশগ্রহণের জন্য আল-আজহার শাখার আয়োজকরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মরহুমার মাগফিরাত কামনা করেন।

আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, “পবিত্র আশুরার মূল শিক্ষাই হলো সত্য, ত্যাগ, চরম ধৈর্য ও উচ্চতর মানবতার আদর্শকে বুকে ধারণ করা। কারবালার ময়দানে ফোরাতের তীরে নবীপরিবারকে যেভাবে তৃষ্ণার্ত রেখে শহীদ করা হয়েছিল, সেই বেদনাবিধুর স্মৃতিকে স্মরণ করে মানুষের তৃষ্ণা মেটাতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। রাসুলপ্রেম ও আহলে বায়েতের ভালোবাসার টানেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।” ভবিষ্যতেও গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, আল-আজহার ইউনিভার্সিটি শাখা প্রবাসের মাটিতে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কল্যাণমূলক এমন সব কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী চলা এই সেবামূলক কর্মসূচির সমাপ্তিতে ঐতিহাসিক ইমাম হোসাইন (রা.) মসজিদ প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে এই খেদমত কবুল হওয়া, দাতা মাহফুজুর রহমানের মরহুমা মায়ের মাগফেরাত ও জান্নাত নসিব হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সকলের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।