মিলাদুন্নবী বন্ধের জন্য প্রশাসনের নামে মিথ্যাচার ক‌ওমিদের, জেলা প্রশাসক বললেন ‘সত্যতা নেই’ 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উদযাপনকে ঘিরে নিজের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কওমি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, জেলা পরিষদ প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের পর তিনি নাকি বলেছেন—‘এ ধরনের বেদাতি কর্মকাণ্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে করতে দেওয়া হবে না।’ এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় ও সুফিবাদী মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে দ্য সুফি টাইমসের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়। তিনি এই খবরকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন: “আমার কথা হলো, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এখানে সবার সমান অধিকার রয়েছে, যার যার ধর্ম সে পালন করবে। ইসলামেও স্পষ্টভাবে বলা আছে—‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন’ (তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমার ধর্ম আমার জন্য)। এখানে আমি কেন আরেকজনের ধর্মীয় অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করতে যাব?” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “এখানে (মিলাদুন্নবীর মতো ধর্মীয় আয়োজনে) আমার হস্তক্ষেপ করা মানে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যাওয়া।”

নিজের নামে এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানোর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন: “এ ব্যাপারে আমার কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য আছে? কোনো লিখিত স্টেটমেন্ট আছে? আমার পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য নেই, স্টেটমেন্ট নেই, এমনকি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্যও করা হয়নি।”

মাদ্রাসায় যাওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, “আমি মূলত পুলিশ প্রশাসন এবং তাদের মধ্যকার একটি সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে এই ধরনের (মিলাদুন্নবী বন্ধের) কোনো কথাই হয়নি।”

প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন সুস্পষ্ট বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি শিক্ষার্থীদের বরাতে ছড়ানো এই বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ও সুফিপ্রেমী মহল। একইসঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত