মিরপুরে শাহ আলীর মাজারে হামলার দুইদিন পার হলেও হামলা নিয়ে বক্তব্য নেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের

রাজধানীর মিরপুরে ঐতিহাসিক হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে হামলার পর দুই দিন অতিবাহিত হলেও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য বা নির্দেশনা না আসায় সুফি সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঢাকার অন্যতম প্রধান এবং প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ধর্মীয় স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার পরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই রহস্যজনক নীরবতা উগ্রবাদী অপশক্তিকে আরও বেশি উৎসাহিত করছে বলে মনে করছেন সুফি ঘরানার গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা।

মন্ত্রণালয়ের নীরবতা ও মাঠপর্যায়ের অসংলগ্নতা:
গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) রাতে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক মিরপুর মাজার শরিফে প্রবেশ করে সাধারণ ভক্ত ও নারীদের ওপর হামলা চালায় এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এই ঘটনার পর মাঠপর্যায়ের পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে অসংলগ্ন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য আসতে দেখা গেছে। পুলিশ যেখানে একে প্রথমে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, সেখানে স্থানীয় জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্যও ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ একে ন্যায্যতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন চরম সমন্বয়হীনতার মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে যেখানে কঠোর বার্তা ও দিকনির্দেশনা প্রত্যাশিত ছিল, সেখানে তাঁর এই নীরবতা সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাবোধকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

মাকাম ও সুফি সমাজের উদ্বেগ:
সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক মাজার ও খানকায় হামলার ঘটনা ঘটলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। মাকামের প্রতিনিধিরা বলেন, “রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং পঞ্চদশ শতকের একটি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ওপর যখন এভাবে আঘাত আসে, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরব থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”

 

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত