প্রখ্যাত বুজুর্গ ও আধ্যাত্মিক ব্যাক্তিত্ব হযরত কেবলা শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.) এর সুযোগ্য নাতি, আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (রহ.)-এর প্রথম ইসালে ছাওয়াব মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান গতকাল শুক্রবার (৩০ শে জুলাই) মশুরীখোলা দরবার শরীফে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আধ্যাত্মিক আবহ ও ভক্তিময় পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজিত এ মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ওলামা-মাশায়েখ, ইসলামি চিন্তাবিদ, দরবারের খলিফা, আশেকান-ভক্তবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মশুরীখোলা দরবার শরীফের বর্তমান গদ্দিনশীন পীর সাহেব ও মশুরীখোলা আঞ্জুমানে আহসানিয়া বাংলাদেশের নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহ মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান (মা.জি.আ.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক আলহাজ এ.এম.এম. বাহাউদ্দীন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেসীনের মহাসচিব আল্লামা অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমাদ মোমতাজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান, শাহ মুহাম্মদ মোহসেনুজ্জামান, বেতাগী আস্তানা শরীফের পীর সাহেব গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ, ড. সাইফুল আযম বাবর আল-আযহারী, প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যক্ষ আবু জাফর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা আবুল বাশারসহ দেশের বিশিষ্ট ওলামা-মাশায়েখ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মাহফিল উপলক্ষে খতমে কুরআন, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ওয়াজ-নসিহত, জিকির-আযকার এবং মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, দেশের স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি এবং মানবকল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
বক্তারা তাঁদের আলোচনায় বলেন, ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে ন্যায়, ইনসাফ, মানবিকতা ও আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করে। যারা ধর্মকে কেবল বাহ্যিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে, তারাই ধর্মের অপব্যবহার করে সমাজে বিভেদ, মিথ্যাচার ও অন্যায়ের বিস্তার ঘটায়। তাঁরা আরও বলেন, আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (রহ.) আজীবন ইসলামের সৌন্দর্য, আধ্যাত্মিকতা, মানবসেবা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাঁর জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় এবং সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সভাপতির বক্তব্যে মুফতি শাহ মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান (মা.জি.আ.) বলেন, দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে যুবসমাজকে দক্ষ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক জনশক্তিতে পরিণত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (রহ.) তাঁর ৭৪ বছরের জীবন ইসলাম, শিক্ষা, আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানবকল্যাণে উৎসর্গ করেছেন। মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, এতিমখানা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সমাজে যে সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।