জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কারবালার শিক্ষা, নৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রগঠন নিয়ে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও তাৎপর্যপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৪ জুলাই ২০২৬ (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘প্রজ্ঞাপথ সোসাইটি’-এর উদ্যোগে ‘The Enduring Legacy of Karbala: Towards Ethical Leadership, Social Justice, and State-Building’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত ওয়ায়েজ মুফতি ড. সাইয়েদ মোহাম্মদ আনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ (কীনোট) উপস্থাপন করেন শায়খ মুহাম্মদ সাইফুল আজম বাবর আল-আজহারি এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শায়েখ মুফতি সাইফুল ইসলাম বারি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন জবি’র ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল্লাহ।
মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন চিশতি ও জি. এম. এস. আহমাদ রেজার যৌথ সঞ্চালনায় সেমিনারের সূচনা হয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাফেজ রহমত উল্লাহ মাক্কীর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর প্রথা অনুযায়ী অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী কুফিয়া (উত্তরীয়) পরিয়ে এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়।
স্বাগত বক্তব্যে প্রজ্ঞাপথ সোসাইটির কনভেনার জি. এম. এস. আহমাদ রেজা কারবালার মহান শিক্ষা এবং সমকালীন সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল্লাহ কারবালার আদর্শকে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রেক্ষাপটে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ আলোচক শায়েখ মুফতি সাইফুল ইসলাম বারি কারবালার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য, আত্মত্যাগ, নৈতিক দৃঢ়তা ও মানবকল্যাণের দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মূল প্রবন্ধে শায়খ মুহাম্মদ সাইফুল আজম বাবর আল-আজহারি কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনাকে নৈতিক নেতৃত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আধুনিক ধারণার সঙ্গে সংযুক্ত করে এক তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি ড. সাইয়েদ মোহাম্মদ আনায়েতুল্লাহ আব্বাসী কারবালাকে সত্য, ন্যায় ও অবিচল আত্মত্যাগের এক চিরন্তন ও বিশ্বজনীন আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিন শিক্ষার্থীদের নৈতিক নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে কারবালার শাশ্বত শিক্ষা ও চেতনা নিজেদের জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সেমিনারের স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়। সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব (বড় হুজুর) ফাউন্ডেশন, ওয়ালিয়া হজ কাফেলা, আত-তাদরীস অনলাইন মাদরাসা, মাদানী হাসপাতাল লিমিটেড, জুয়েল মোটর করপোরেশন, আরবাইট টেকনোলজি, বাল্টিক কন্ট্রোল (বিডি) লিমিটেড এবং লাইভ এয়ার ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস।
সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু তৈয়ব মো. নাজমুস সাকিব ভূঁইয়ার তত্ত্বাবধানে একটি শিক্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ২০ জন বিজয়ী শিক্ষার্থীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এরপর জি. এম. এস. আহমাদ রেজার সঞ্চালনায় উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর ও সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজনের সমাপনী পর্বে শায়খ মুহাম্মদ সাইফুল আজম আল-আজহারি মিলাদ ও কিয়াম পরিচালনা করেন এবং প্রধান অতিথি মুফতি ড. সাইয়েদ মোহাম্মদ আনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরিশেষে জবি উপাচার্য উপস্থিত সকল অতিথি, বক্তা, স্পন্সর ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি কারবালার প্রকৃত মূল্যবোধ ও গবেষণাধর্মী বার্তা ছড়াতে দারুণ সাড়া ফেলেছে।