চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও যথাযোগ্য মর্যাদায় গাউছিয়া মইনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা শাহ সুফি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন (রহ.)-এর ৭ম পবিত্র বার্ষিক ওরস ও ফাতেহা শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) উপজেলার বরুমছড়া ২ নং ওয়ার্ডে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এই পবিত্র ওরস শরীফ সম্পন্ন হয়। এ উপলক্ষে পুরো এলাকাজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিম ও সুফি অনুরাগীদের মাঝে এক অভূতপূর্ব উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়।
ওরস শরীফের কর্মসূচির মধ্যে ছিল পবিত্র কুরআন খতম, মিলাদ শরীফ, জিকির-আজকার এবং ফাতেহা শরীফ পাঠ। দিনব্যাপী পরিচালিত এই বিশেষ আধ্যাত্মিক সম্মেলনে মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও আধ্যাত্মিক দরজাত বুলন্দির লক্ষ্যে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এই পুণ্যময় সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওলীকুল ভক্ত, আশেকান ও বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান সমবেত হন।
মাদ্রাসার আয়োজকবৃন্দ ও স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম বলেন, “মরহুম মাওলানা শাহ সূফী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন (রহ.) ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত দ্বীনি ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবক ও তরিকতের একনিষ্ঠ রাহবার। এই জনপদে সুন্নি ও ইসলামী শিক্ষার বিস্তার এবং মানবকল্যাণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। এলাকাবাসীর কাছে তিনি আজও অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে আছেন এবং তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শকে সমুন্নত রাখতেই প্রতি বছর এই ওরস শরীফের আয়োজন করা হয়।”
ওরস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করা হয় এবং উপস্থিত সকল ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ধর্মীয় ও সুফিবাদী আয়োজন সমাজে প্রকৃত ইসলামী মূল্যবোধ, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও আধ্যাত্মিক চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পরিশেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। মোনাজাত শেষে মাজার পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত সকল ভক্ত ও মেহমানদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।