বরগুনার আমতলী উপজেলার বটতলা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ইসমাইল শাহের মাজারে আবারও গভীর রাতে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের পবিত্র রমজান মাসে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে যেখানে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছিল, সেই একই মাজারে এবার এক বছর চার মাসের মাথায় দ্বিতীয়বারের মতো এই পরিকল্পিত চোরাগোপ্তা হামলা চালানো হলো। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের এই ঘটনায় মাজারের পবিত্র গিলাফের একাংশ পুড়ে গেছে এবং ভক্তদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের জোরালো অভিযোগ—পূর্ব শত্রুতা, আদর্শিক বিরোধ এবং গতবারের হামলার বিচার না হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রথমবারের হামলাকারীরাই এই দ্বিতীয় দফা অগ্নিকাণ্ডের পেছনে মূল কারিগর ও প্রধান সন্দেহভাজন।
প্রথমবারের হামলাকারীরাই কেন প্রধান সন্দেহভাজন?
মাজার সংশ্লিষ্ট এবং স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই দ্বিতীয় হামলার ধরন, উদ্দেশ্য এবং পূর্বের হুমকি বিশ্লেষণ করলে প্রথমবারের হামলাকারীদের দিকেই সন্দেহের আঙুল ওঠে। এর কারণগুলো হলো:
আদর্শিক বিরোধ ও একই ধরণের উগ্র মানসিকতা: গত বছর (২০২৫ সালের) ১৬ মার্চ রাতে মাজারটির ২৮তম ওরস চলাকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি ওমর ফারুক জেহাদী ও সাধারণ সম্পাদক গাজী বায়েজিদের নেতৃত্বে শতাধিক লাঠিসোঁটাধারী ব্যক্তি অতর্কিতভাবে ওরস প্রাঙ্গণে চড়াও হয়েছিল। তারা ‘মাজার পূজা ও গানবাজনা’ বন্ধের দাবি তুলে মাজারের ওপর বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। ইসলামী আন্দোলনের তৎকালীন নেতা ওমর ফারুক জেহাদী প্রকাশ্যেই এই মাজারকে ‘ভণ্ডের আস্তানা’ এবং ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে উগ্র বক্তব্য দিয়েছিলেন। ফলে মাজারটি গুড়িয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য এজেন্ডা বা মোটিভ তাদেরই ছিল।
একই কায়দায় অপরাধের পুনরাবৃত্তি: গতবারের হামলায় মাজারের শামিয়ানা ও বৈঠকখানা পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হয়েছিল। এবারও ঠিক একইভাবে কেরোসিন ছিটিয়ে মাজার ও খাদেমের পরিবারকে পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে আগুন দেওয়া হয়েছে। অপরাধের এই একই ধরনে পরিষ্কার বোঝা যায়, পূর্বের হামলাকারীরা অথবা তাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত গোষ্ঠীই এর পেছনে জড়িত থাকার সম্ভাবনা বেশি।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি:
গত বছর ওরসে আসা ভক্তদের মারধর, অন্তত ২০ জনকে গুরুতর আহত করা এবং মাজারের দানবাক্স লুটপাটের মতো বড় অপরাধ করার পরেও হামলাকারীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি হয়নি। বিচার না হওয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই সন্দেহভাজনরা এবার আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে রাতের আঁধারে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়েছে বলে মনে করছেন মাজার পরিচালনা কমিটি।
জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি
এক বছরের ব্যবধানে আবারও একই কায়দায় কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, “গত বছর ওরস চলাকালে উগ্রবাদীরা প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছিল। এবারও একইভাবে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে না এলে মাজার ও খাদেমের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যেত। আমরা পূর্বের ও বর্তমানের ঘটনার সূত্র ধরে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”