এসজেডএইচএম ট্রাস্টের উদ্যোগে ৬৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ ৮৯ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান

 

সমাজসেবা, চিকিৎসাসেবা ও ধর্মীয়-শিক্ষা প্রসারে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট (এসজেডএইচএম ট্রাস্ট)-কে একুশে পদক বা স্বাধীনতা পদক প্রদান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যরত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। (ছবি: সংগৃহীত)

২১ জুন (রবিবার) ট্রাস্টের নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজিত বিভিন্ন খাতে সহায়তাপ্রাপ্ত ৬৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ৪২ লাখ ৮৯ হাজার টাকার চেক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দরবার-ই-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর গাউসিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন এবং এসজেডএইচএম ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর পরিচালক ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যরত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর পরিচালক ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু চৌধুরী। (ছবি: সংগৃহীত)

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আল্লাহর আউলিয়া কেরাম সর্বদা মানবসেবা ও মানবতার কল্যাণের বার্তা নিয়ে এই পৃথিবীতে আগমন করেছেন। মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের এই বহুমুখী মানবিক কর্মকাণ্ডসমূহ মূলত তাঁদের সেই মহান দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন। মানবকল্যাণে ট্রাস্টের এই বিশাল অবদানকে মূল্যায়ন করে একে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পদক বা একুশে পদকে ভূষিত করা উচিত।”

সভাপতির বক্তব্যে হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী বলেন, “সুফিয়ায়ে কেরাম কারও কাছ থেকে কোনো পার্থিব প্রতিদান লাভ কিংবা আনুগত্যের আশা ব্যতিরেকে, কেবল মহান আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই আজীবন সামাজিক ও মানবিক খেদমত করে গেছেন। সেই ঐতিহ্যবাহী ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিঃস্বার্থভাবে মানবসেবামূলক কাজ পরিচালনা করে যাচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখছেন হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী। (ছবি: সংগৃহীত)

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসজেডএইচএম ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ. ওয়াই. এম. জাফর। অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন এবং শিশু-কিশোর সমাবেশের প্রধান সমন্বয়ক রাশেদ খান।

এবারের আয়োজনে মোট ৬৬টি খাতে ৪২ লাখ ৮৯ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ২টি মসজিদ নির্মাণে সহায়তা, ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুদান, ৫ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি, ২ জন আলেমকে বিশেষ সহায়তা, ক্যান্সার, ডায়ালাইসিসসহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত ৩৬ জনকে চিকিৎসা সহায়তা, ৩ জনকে আয়-বর্ধক (স্বাবলম্বীকরণ) খাতে সহায়তা, ২ জনকে বিদেশ যাত্রায় সহায়তা, ১০ জন অসহায় তরূণীর বিবাহের খরচ, ২ জনকে ঋণ পরিশোধ এবং ২ জনকে গৃহ মেরামতের জন্য আর্থিক অনুদান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। (ছবি: সংগৃহীত)

হাফেজ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মিলাদ-মোনাজাত পরিচালনার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ট্রাস্টের প্রশাসনিক ও সমন্বয় কর্মকর্তা তানভীর হোসাইন। ট্রাস্টের এই সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী উদ্যোগের জন্য উপকারভোগী ও স্থানীয় সুধী সমাজ গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত