বিশ্বসমাদৃত ‘ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তক, আওলাদে রাসুল (দ.) গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর দ্বিশততম (২০০তম) ঐতিহাসিক জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণাধীন শিক্ষা প্রকল্পের উদ্যোগে ২০২৫ পর্বের তৃতীয় ধাপের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। আজ ০৪ জুলাই ২০২৬ (শনিবার) সকাল সাড়ে দশটায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ৮ম তলায় নবগঠিত “জুলাই বিপ্লব স্মৃতি” মিলনায়তনে এই পুণ্যময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এবারের তৃতীয় ধাপে বুয়েট, মেডিকেল, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার মোট ২৩৬ জন দরিদ্র, মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে সর্বমোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) বৃত্তি তহবিলের সদস্য আবু সালেহ সুমনের চমৎকার সঞ্চালনায় এবং ট্রাস্টের সম্মানিত সচিব এ ওয়াই এমডি জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কর্ণফুলী আবদুল জলিল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি কারা পরিদর্শক জাফর আহমদ, ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম, বিশিষ্ট সমাজসেবক সৈয়দ শিহাব উদ্দিন আলম এবং শিশু-কিশোর সমাবেশ আয়োজক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক এইচ এম রাশেদ খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এসজেডএইচএম বৃত্তি তহবিলের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ট্রাস্টের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ ট্রাস্টের শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক দর্শনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “এসজেডএইচএম ট্রাস্ট শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে দেশে সুশিক্ষা ও আলোর বিস্তারে এক ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট হলো সম্পূর্ণ একটি রুহানী ও আধ্যাত্মিক ট্রাস্ট, তাই এখান থেকে মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ বৃত্তি পাওয়া যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “এই ট্রাস্ট একটি সুশিক্ষিত ও আদর্শ জাতি তৈরি, সাধারণ জনগণের সেবা, মানবসেবা, সমাজের টেকসই উন্নয়ন এবং সামগ্রিকভাবে মানুষের উপকারে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সুফি গবেষক ও অন্যান্য বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের এই বৃত্তিপ্রাপ্ত সুবিধাবঞ্চিত কৃতি শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সুশিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে দেশের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবেন এবং আগামীর একটি সুষম ও সাম্যবাদী সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

মাদরাসায়ে গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর কৃতি শিক্ষার্থী হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদের পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর দরবারের ঐতিহ্যবাহী ধারায় নাতে মোস্তফা (দ.) ও আধ্যাত্মিক ভাবসমৃদ্ধ মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশন করেন হাফেজ আরমান হোসেন।
উল্লেখ্য, ট্রাস্টের এই প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৮টি উপজেলার (আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া এবং কর্ণফুলী) ৫ম শ্রেণীর সমমানের আট শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ৫ জনকে ট্যালেন্টপুলে এবং প্রতি উপজেলায় ৩ জন করে সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৪ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) শিশুসহ মোট ৭০ জন মেধাবীকে ২ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা প্রদান করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় আজ তৃতীয় ধাপের এই মহতী কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।