আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাজারের মূল ফটকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দানবাক্স স্থাপন করার পাশাপাশি মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি বড় ডেগের (দানের পাত্র) তালা সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাজার এলাকায় আনসার সদস্য নিয়োগ দিয়ে পাহারা বসানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) বিকেল ৩টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই বিশেষ অভিযান ও কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাজারের আয়-ব্যয়ের পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট এবং মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে। পরবর্তীতে এই ব্যবস্থাপনাকে স্থায়ী রূপ দিতে একটি টেকসই ও স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরি করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে মাজারের শৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, সিলেটের ঐতিহাসিক এই দুই মাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত, আশেকান ও দর্শনার্থী আসেন। তাঁরা মানত কিংবা শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গবাদিপশুসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করে থাকেন।

সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ নির্দেশনার পর মাজার ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা আনার এই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্যোগে সিসিক ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সভাতেই মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অস্পষ্টতার বিষয়টি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে।
বিষয়টি আমলে নিয়ে গত ১০ জুন, সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন, ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।