লালদীঘি ময়দানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮ বরণ: ইসলামী সাংস্কৃতিক জাগরণের মাধ্যমে মানবিক বিশ্ব গড়ার আহ্বান

 

অবক্ষয়গ্রস্ত যুব-তরুণদের বিপথগামিতা রুখতে সরকারের বড় পরিকল্পনা গ্রহণ, ১ মহররম হিজরি নববর্ষে ঐচ্ছিক ছুটি পুনর্বহাল ও এই দিনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা, সর্বপ্লাবী মাদকের বিস্তার রোধ, আকাশ ও নেটকেন্দ্রিক অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থামানো এবং সর্বস্তরের শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক শিক্ষা চালুর দাবির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮-কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করা হয়েছে। গত ১৭ জুন বুধবার বিকেলে ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ১৭তম হিজরি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান পীরে তরিকত আল্লামা গোলামুর রহমান আশরফ শাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের মহাসচিব মুহাম্মদ এনামুল হক ছিদ্দিকী। হাজারো শ্রোতার উপস্থিতিতে হামদ, নাতে রাসুল, গজল, কাওয়ালি, মরমী, মাইজভাণ্ডারী ও দেশাত্মবোধকসহ নানা উজ্জীবনধর্মী গান ও সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেন বিভিন্ন ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠনের শায়ের ও খুদে শিল্পীরা।

সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সংগঠক মাওলানা এম এ মতিন। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মজলিসে শূরা সদস্য পীরে তরিকত অধ্যক্ষ আল্লামা আবুল ফরাহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আলকাদেরী। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমান এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নূ ক ম আকবর হোসেন।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা আশরফ শাহ বলেন, বিকৃত আবেদনময়ী পশ্চিমা স্থূল সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা থেমে নেই এবং মুসলমানদেরকে ইসলামী সংস্কৃতি ভুলিয়ে পথচ্যুত করার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বিজাতীয় অপসংস্কৃতি বর্জন করে সুস্থ ধারার দেশীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি চর্চা বাড়ানোর তাগিদ দেন। উদ্বোধক অধ্যক্ষ আবু ফারাহ ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ওপর নির্মম নিপীড়ন-জুলুম চলছে এবং তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি মুছে দেয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নিজস্ব সংস্কৃতি ধারণ ও লালন করতে হবে। মুখ্য আলোচক প্রফেসর ড. নূ ক ম আকবর হোসেন বলেন, নতুন বছরে পদার্পণ মানে নতুন স্বপ্নে জেগে ওঠা; বাহ্যিক চাকচিক্য প্রদর্শন নয়, বরং প্রিয় নবীর আদর্শ ধারণ করে চিন্তায় ও কর্মে অনুকূল পরিবর্তন আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের চেয়ারম্যান আল্লামা কাযী মুঈন উদ্দিন আশরাফী, অধ্যক্ষ আল্লামা সৈয়দ অছিয়র রহমান আলকাদেরী, রাজনীতিবিদ ও সংগঠক অধ্যক্ষ স.উ.ম আব্দুস সামাদ, মাওলানা শাহ নূর মোহাম্মদ আল কাদেরী, সাংবাদিক সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মুহাম্মদ আলী হোসেন আরিফ এবং মাওলানা ইউনুস তৈয়বী যুক্তিবাদী। সাংস্কৃতিক সচিব মুহাম্মদ ওসমান গণি কাদেরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে এম নাছির উদ্দীন মাহমুদ, আবু নাছের মুহাম্মদ তৈয়ব আলী, অধ্যাপক মীর আবদুর রহিম মুনিরী, মুহাম্মদ বশির আহমদ চৌধুরীসহ বহু শিক্ষাবিদসহ সুধীজন ও তরুণ সংগঠক অংশ নেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ কর্তৃক ‘হিজরি স্মারক’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরিশেষে, মিলাদ-কিয়াম শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং বিশ্বের মজলুম মানবতার পরিত্রাণ কামনায় এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত