রাজধানীর মিরপুরে ঐতিহাসিক সুফি সাধক হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে সাধারণ ভক্তদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৯ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে দায়ের করা এই মামলায় এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) রাতে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম মামলার রুজু ও আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা ও গ্রেপ্তারের বিবরণ:
পুলিশ জানায়, মাজার শরিফে হামলায় আহত রেশমি বেগম নামের এক নারী ভক্ত বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), মো. আজম (৪০) এবং মো. আরমান দেওয়ান (২৯)। ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই তিনজনকে সরাসরি হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সুনির্দিষ্ট অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “আসামিদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পদবি এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা:
মামলার এজাহারনামীয় ৯ জন আসামি হলেন—মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), মো. আজম (৪০), শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) এবং কাজী পনির (৫০)।
এজহারে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা:
মামলার বাদী রেশমি বেগম এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মিরপুরের শাহ আলী মাজার জিয়ারত করে আসছেন এবং ওরস চলাকালীন আস্তানা তৈরি করে ভক্তদের সহযোগিতা করেন। প্রতি বৃহস্পতিবারের মতো গত বৃহস্পতিবারও (১৪ মে) গভীর রাতে মাজার শরিফে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ছিল। দিবাগত রাত ১২টার দিকে জিয়ারত ও মানত চলাকালে জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনের আনুমানিক ১০০-১৫০ জন নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটাসহ মাজারের প্রধান গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে আচমকা তৌহিদি জনতার ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা মাজারের শিরনির ডেগের পবিত্র লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে মাজারের প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। রেশমি বেগম এই ন্যাক্কারজনক ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাঁকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে, তাঁর পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে। এ সময় হামলাকারীরা মাজার শরিফে আসা সাধারণ জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাজার শরিফে এমন হামলার ঘটনায় সুফি সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুফি নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।