রাজধানীর মিরপুরে ঐতিহাসিক হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.)-এর মাজারে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তীব্র সমালোচনা করলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। মাজার পরিদর্শনকালে তিনি পুলিশের বক্তব্যকে ‘ন্যাক্কারজনক’ বলে অভিহিত করলেও, একই ঘটনায় হামলার পক্ষে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টাকারী ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের বক্তব্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এনসিপির শীর্ষ নেতার এমন অবস্থান সুফি সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ, এমপির বেলায় নীরবতা:
মাজার পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং ঘটনাটিকে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ হিসেবে চালানোর পুলিশি চেষ্টার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানান, পুলিশ এই হামলাকে প্রশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের দেওয়া বক্তব্য অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।
তবে সচেতন মহলের দৃষ্টি কেড়েছে এই সুনির্দিষ্ট হামলার ঘটনার আরেকটি বড় রাজনৈতিক দিক। ঘটনার পর ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম হামলার তীব্র নিন্দা বা প্রতিবাদের পরিবর্তে একে স্রেফ একটি ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ বলে এর ন্যায্যতা বা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সুফি ঘরানার গবেষক ও সাধারণ ভক্তদের মতে, একজন আইনপ্রণেতা হয়েও মাজারের মতো একটি সংবেদনশীল ধর্মীয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে হামলাকে মাদকবিরোধী অভিযানের মোড়কে জাস্টিফাই করার এই চেষ্টা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কিন্তু মাজার সুরক্ষার দাবি নিয়ে সশরীরে উপস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার জামায়াত এমপির এই বিতর্কিত ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করেননি বা কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেননি।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ও প্রশ্ন:
সারোয়ার তুষারের এই দ্বিমুখী কৌশল বা সিলেক্টিভ সমালোচনা নিয়ে সুফি সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মৃদু গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মাজার কেন্দ্রিক বিভিন্ন সামাজিক ও গবেষণা সংগঠনের (যেমন ‘মাকাম’) পক্ষ থেকে যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে—সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য দেশে ধারাবাহিক মাজার ও খানকায় হামলাকে আরও বেশি উৎসাহিত করবে এবং এর কড়া জবাব দেওয়া উচিত; সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো একটি উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তির এই নীরবতা বা এড়িয়ে যাওয়ার নীতি অনেককেই হতাশ করেছে।
কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর মতো বড় দলের স্থানীয় প্রতিনিধির সাথে সরাসরি দ্বন্দ্বে না জড়ানোর কৌশলগত কারণেই হয়তো সারোয়ার তুষার কেবল পুলিশের কাঁধেই দোষ চাপিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেছেন।