প্রখ্যাত আলেম, দক্ষ সংগঠক ও আল আযহার গ্র্যাজুয়েটস বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক মরহুম মাওলানা শায়েস্তা খান আযহারী (রহ.)-এর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও স্মৃতিচারণে এক আবেগঘন স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৬ মে (বুধবার) ২০২৬ সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর এক মিলনায়তনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ওলামায়ে কেরাম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এই সভা সম্পন্ন হয়।
পিএইচপি ফ্যামিলি ও আল আযহার গ্র্যাজুয়েটস বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরহুমের মেজো ভাই চট্টগ্রাম কলেজের রসায়ন বিভাগের সাবেক প্রধান ডক্টর নু.ক.ম. আকবর হোসাইন। সভায় বক্তারা মরহুম মাওলানা শায়েস্তা খান আযহারীর জীবনকে জ্ঞানচর্চা ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরহাদাবাদ দরবার শরীফের পীরে তরিকত মাওলানা মুজাম্মেল হক সাহেব, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফী ও মাইজভাণ্ডারী গবেষক ডক্টর মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর। বক্তারা বলেন, ৫২ বছরের জীবনে মাওলানা শায়েস্তা খান আযহারী ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান আলেম ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার সাবেক এই আরবি প্রভাষক দ্বীনের খেদমতে ‘মাদরাসা-এ গাউছিয়া আহমাদিয়া রহমানিয়া’ ও ‘জি.এ.আ. ইসলামিক ইনস্টিটিউট’সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। সংগঠনের চেয়ারম্যান কর্তৃক পরিচালিত ‘মিজানুছ ছালাম ইসলামিক একাডেমি’র শিক্ষক হিসেবেও তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
স্মরণ সভায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় যখন বক্তারা মরহুমের ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডি তুলে ধরেন। মাত্র তিন মাস আগে তাঁর সহধর্মিণী ইন্তেকাল করেছিলেন এবং গত সোমবার মাওলানা শায়েস্তা খান নিজেও সন্তানদের ইয়াতিম করে পরপারে পাড়ি জমান। তাঁর রেখে যাওয়া দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে ছোট মেয়েটির বয়স মাত্র ৬ বছর। বাবা-মা উভয়কে হারিয়ে শিশু সন্তানদের এই অসহায়ত্বে উপস্থিত সকলের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন আল আযহারী। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ জালালুদ্দিন আল আযহারী, মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন খালেদ আল আযহারী, মাওলানা আবু আহমাদ আল আযহারী, ডক্টর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আল কাদেরীসহ পিএইচপি ফ্যামিলি ও আল আযহার গ্র্যাজুয়েটসের নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে মিলাদ-কিয়াম ও সালাতু সালাম পরিবেশন করা হয়। পরিশেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত এতিম সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।