বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ফাতেহা শরিফ সম্পন্ন: লাখো আশেকানের মিলনমেলা

ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের আধ্যাত্মিক সাধক হজরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) সাহেবের ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফাতেহা শরিফ লাখ লাখ জাকেরান ও আশেকানের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার আখেরি মোনাজাতে সমবেত মুসল্লিরা জীবনের সব পাপাচার থেকে মুক্তি পেতে এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের বিশিষ্ট খাদেম হাফেজ নোমানী সাহেবের ফাতেহা পাঠ শেষে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি মাসুদুর রহমান হানিফ। মোনাজাতে পীর সাহেবের জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা ও উত্তরাধিকারী আলহাজ খাজা মাহফুজুল হক মুজাহেদ্দীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শরিক হন।

 

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে আগত লাখো ভক্ত আশেকের মিলনমেলা

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৫৫ বছর ইসলামের দাওয়াত দিয়ে ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাতে লক্ষ লক্ষ অনুসারীকে শোকাতুর করে পীর সাহেব ইন্তেকাল করেন। তাঁর স্মৃতি ও আদর্শ স্মরণে প্রতিবছর এই ফাতেহা শরিফের আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। ফাতেহা শরিফে সমবেত ভক্তরা রাতভর পীর সাহেবের মাজার শরিফ জিয়ারতে মগ্ন ছিলেন। শুক্রবারের মোনাজাতে ফিলিস্তিন, ইরান, লেবানন ও কাশ্মীরসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের হেফাজত ও ইসলামের বিজয়ের জন্য মহান রব্বুল আলামিনের করুণা ভিক্ষা করা হয়।

 

এই আধ্যাত্মিক জমায়েতে অংশ নিতে গত কয়েক দিন ধরেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে জড়ো হন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের নানা জেলা থেকে কাফেলা আসতে শুরু করে। বিশেষ করে পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি বিশেষ ট্রেন বৃহস্পতিবার সকালে পুকুরিয়া স্টেশনে ভক্তদের নিয়ে পৌঁছায়, যা শুক্রবার বিকেলে পুনরায় উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বৃহস্পতিবার মাগরিবের জামাত শেষে ছয় রাকাত নফল নামাজ ও জিকিরের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। মাহফিলে ওলামায়ে কেরামগণ শরিয়ত, তরিকত ও মারেফতের গুঢ় রহস্য এবং পীর সাহেবের জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন।

 

আখেরি মুনাজাতরত ভক্ত আশেকানরা

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও জিকিরে মুখরিত ছিল দরবার প্রাঙ্গণ। পীর সাহেবের ওফাতের সময়কে কেন্দ্র করে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ দোয়া। শুক্রবার সকালে মাজার শরিফ জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠের পর জুমার নামাজ শেষে আবারও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর এবাদত-বন্দেগি শেষে বাদ আসর আনুষ্ঠানিকভাবে ফাতেহা শরিফের সমাপ্তি ঘটবে। এদিকে ভক্তদের চাপে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগস্থলগুলোতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা যানজট নিরসনে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও জনস্রোতের কারণে হাজারো মানুষকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে দরবারে পৌঁছাতে হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে আসা এই বিপুল জনসমুদ্রের জন্য আহার ও বাসস্থানের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিল দরবার কর্তৃপক্ষ।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত