পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে রাসুল (দ.) এর বংশধর, দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোটের অন্যতম সাজ্জাদানশীন পীরে বাঙ্গাল পীর সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহের সদারতে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পীর সাবির শাহের সাথে আরও ছিলেন সাহিবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাশিম শাহ ও সৈয়দ মুহাম্মদ আকিব শাহ। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেন। আয়োজক ও জুলুসে অংশ নেয়া নবিপ্রেমিকদের দাবি, এবারের জশনে জুলুসে তিন থেকে চার লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকেই মোহাম্মদপুরের কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা সমবেত হতে থাকেন। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে মাদরাসা প্রাঙ্গণ পূর্ণ হয়ে যায়। পরে বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে জশনে জুলুস শুরু হয়।
কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা মাঠ থেকে শুরু হয়ে জুলুস কৃষি মার্কেট, রিং রোড, শিয়া মসজিদ, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, সাত মসজিদ রোড, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মিরপুর রোড, আসাদ গেট ও কলেজ গেট হয়ে শ্যামলী ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
জুলুস শেষে শ্যামলী ক্লাব মাঠে পীর সাবির শাহের ইমামতিতে জোহরের নামাজ আদায় করেন অংশগ্রহণকারীরা। পরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ.)-এর জীবন, আদর্শ ও ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিলে প্রধান অতিথি ও সভাপতির বক্তব্যে পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ বলেন, রাসুলুল্লাহ (দ.) সমগ্র সৃষ্টির জন্য আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠ নিয়ামত ও রহমত। তাঁর শুভাগমনে আনন্দ প্রকাশ করা আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণের অংশ। কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (দ.)-এর শুভাগমন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদ্যাপন করা হয়।
সমসাময়িক পরিস্থিতি ব্যাখ্যায় পীর সাবির শাহ বলেন, ইসলামের নামে যেকোনো ধরনের উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস সুফিবাদী সুন্নি মুসলমানরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (দ.) এর জীবনাদর্শ শান্তি, সাম্য, মানবতা ও মুক্তির পথ দেখায়। মহানবীর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
মাহফিল পরিচালনা করেন কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক। ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন মাদরাসাটির অধ্যক্ষ মুফতি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আল-আযহারীসহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ।
জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল পবিত্র কালিমা খচিত পতাকা, বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগান সম্বলিত ক্যালিওগ্রাফি, পতাকা। অংশগ্রহণকারীদের মুখে ছিল সাল্লেআলার সুর। সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী ইত্যাদি স্লোগান।
তীব্র গরম উপেক্ষা করেও জনতার স্রোত ছিল ঈর্ষণীয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও গরমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অংশগ্রহণকারীদের জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়। জুলুসে আগত মানুষের সেবায় আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রায় তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদেরও স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা দেখা গেছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও অনেকে জশনে জুলুসে অংশ নিতে ঢাকায় আসেন। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা থেকে পিতার সাথে জুলুসে অংশ নেন ইবনে মহিউদ্দীন। সে সুফি টাইমসকে জানায়, রাজধানীতে ঈদের আনন্দ আর লাখ লাখ মানুষ দেখে দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কেটে গেছে। যদিও সে চোখেমুখে আনন্দ আর শরীরভরা ক্লান্তি নিয়ে একপর্যায়ে জুলুস কাভার করতে আসা সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত গাড়ীতে উঠে যায়।
চাঁদপুর থেকে সঙ্গীসাথীসহ জুলুসে অংশ নেওয়া রাজাপুর দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন মাওলানা বদরুজ্জোদা কাদেরী জানান, তিনি প্রতিবছরই ঢাকা ও চট্টগ্রামের জশনে জুলুসে অংশগ্রহণ করেন। আওলাদে রাসুলের সদারতে ঈদ পালনের সুযোগ মিস করতে চান না তিনি কোনভাবে।
জুলুস ও মাহফিলে আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম (মনজু),
সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ঢাকা আঞ্জুমানের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ্ব মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), গোলাম মহিউদ্দীন, পেয়ার মোহাম্মদ, আবদুল মালেক বুলবুল, মুহাম্মদ হোসাইন,মহিউদ্দিন খোকনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মাহফিল শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি-সম্প্রীতি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ।