গত ১১ এপ্রিল, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৭) হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দরবারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় এখন পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, মামলার ৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি ও স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজীব মিস্ত্রিকে (৪৫) রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শুক্রবার র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, রাজীব মিস্ত্রি রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার থানা রোডে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে র্যাব-১২ ও র্যাব-৫-এর একটি যৌথ দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত রাজীব ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী। উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন রাজীবকে তাদের কর্মী বলে স্বীকার করেছেন এবং এই মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে আইনগতভাবে মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এর আগে, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দৌলতপুর থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান জানান, ভিডিও দেখে শনাক্ত করার পর রোববার গভীর রাতে ফিলিপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও মামলার প্রাথমিক এজাহারে তাদের নাম ছিল না, তবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া, সোমবার দিবাগত রাতে একই ঘটনার অভিযোগে আলমগীর হোসেন (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজে হামলায় অংশ নিতে দেখা যাওয়ায় তাকে ইসলামপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার আদালত তাকে শিশু-কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে আলমগীরের পরিবার এই দাবি অস্বীকার করেছে। তার খালা রোজিনা খাতুন দাবি করেন, আলমগীর হামলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিল না; বরং আগুন নেভানোর পর কৌতূহলবশত সে দরবারে গিয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
উল্লেখ্য, পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করে বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মামলায় এজাহারভুক্ত একজন এবং ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে তিনজনসহ মোট চারজন শ্রীঘরে রয়েছেন। অভিযুক্ত রাজীব মিস্ত্রিকে শুক্রবার দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।