মিরপুরে শাহ আলী বাগদাদীর মাজারে তিনদিন ব্যাপী ওরস শরীফ শুরু হবে আগামীকাল: হামলার প্রতিবাদে বিপুল সংখ্যক ভক্ত-অনুরক্তের উপস্থিতির সম্ভাবনা

 

সাম্প্রতিক ন্যাক্কারজনক হামলার ক্ষত ও তীব্র উত্তেজনার আবহেই আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহাসিক সুফি সাধক হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.)-এর তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওরস শরীফ। গত ১৪ মে মাজারে উগ্রবাদী হামলার ঘটনার পর এবারের ওরসকে কেন্দ্র করে সুফি অনুরাগীদের মাঝে ভিন্ন এক আবেগ ও উদ্দীপনা কাজ করছে। মাজার সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং আউলিয়ায়ে কেরামের স্মৃতির প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে এবার সারা দেশ থেকে রেকর্ডসংখ্যক ভক্ত-আশেকানের সমাগম ঘটতে পারে।

তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি:
মাজার পরিচালনা কমিটি ও খাদেমদের সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনব্যাপী এই ওরস শরীফের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পবিত্র কুরআন খতম, আউলিয়াদের জীবন ও সুফি দর্শন নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, জিকির-আজকার এবং ঐতিহ্যবাহী সামা মাহফিল। আগামী ২১ মে (বৃহস্পতিবার) গভীর রাতে আখেরী মোনাজাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়ার মাধ্যমে এই আধ্যাত্মিক মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটবে।

হামলার প্রতিবাদে ঢল নামার সম্ভাবনা:
গত সপ্তাহে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে একদল উগ্রবাদী যুবক কর্তৃক মাজারের ভেতরে ঢুকে নারী ভক্ত ও ফকিরদের মারধর এবং আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম’, গাউসিয়া কমিটি, জাকের পার্টি ছাত্রফ্রন্ট এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এই হামলার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে।

ওরস উদযাপন কমিটির একাধিক সদস্য জানান, “হামলা চালিয়ে আমাদের ভয় দেখানোর যে অপচেষ্টা করা হয়েছিল, ভক্তরা তার জবাব দেবেন আগামীকাল মাজারে উপস্থিত হয়ে। হামলাকারীরা মাজারের পবিত্রতা নষ্ট করতে চেয়েছিল, কিন্তু আউলিয়াদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা যে কতটা গভীর, তা এই তিন দিনে প্রমাণিত হবে। আমরা কোনো উস্কানিতে পা দেব না, শান্তির বার্তা নিয়েই ওরস সম্পন্ন করব।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও প্রশাসনের তৎপরতা:
মাজারে হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই রেশমি বেগম নামের এক নারী ভক্তের করা মামলায় ৩ জন জামায়াত-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। তবে ওরস উপলক্ষে মাজারের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এখন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
শাহ আলী থানা প্রশাসন জানিয়েছে, তিন দিনব্যাপী এই ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে মাজারের ভেতরে ও বাইরে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে। যেকোনো ধরনের উস্কানি, বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মাজার প্রাঙ্গণে এবং মিরপুরের প্রবেশপথগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, ডিবি ও সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সুফি সমাজ ও মাজার সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই এই আধ্যাত্মিক মিলনমেলা সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত