কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা ও পীর নিহত: জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি মাকাম’র

কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরে শাহ্ সুফি শামীম আল-জাহাঙ্গীর’র দরবারে একদল উন্মত্ত জনতার নৃশংস হামলায় পীর সাহেব নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম’। গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং মাজার-দরগাহ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।

হামলার বিবরণ ও হতাহত
বিবৃতিতে জানানো হয়, আজ শনিবার কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরে শাহ্ সুফি শামীম আল-জাহাঙ্গীর’র দরবারে হামলা চালায় একদল উগ্র জনতা। হামলাকারীদের আক্রমণে ঘটনাস্থলেই পীর শাহ্ সুফি শামীম আল-জাহাঙ্গীর নিহত হন। এছাড়া পীর সাহেবের বেশ কয়েকজন ভক্ত ও মুরিদ গুরুতর আহত হয়েছেন। মাকাম এই ঘটনাকে ‘নৃশংস, ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

মাকাম’র পরিসংখ্যান ও উদ্বেগ
মাকাম তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশের মোট ৯৭টি মাজারে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব হামলায় এ পর্যন্ত ৩ জন নিহত এবং ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন। ১১টি হামলার ঘটনায় মামলা হলেও কোনোটিরই কার্যকরী অগ্রগতি নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজনৈতিক দল ও সরকারের প্রতি হতাশা
সংগঠনটি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে মাজার ও খানকাহ্ সুরক্ষায় দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ১২টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠানো হলেও কোনো দলই তাদের ইশতেহারে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভুক্ত করেনি। বিবৃতিতে বলা হয়: “মাজারে হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিএনপি সরকারের‌ও সদিচ্ছা ও কার্যকরী সমাধানের দৃশ্যমান গাফিলতির ফলেই কুষ্টিয়ায় এমন নৃশংস ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করে মাকাম।”

দাবি ও প্রস্তাবনা
মাজার ও দরগাহগুলোকে বাংলার হাজার বছরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে মাকাম সরকারের কাছে নিম্নোক্ত দাবিগুলো পেশ করেছে:
জড়িতদের শাস্তি: কুষ্টিয়ার হামলায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
ক্ষতিপূরণ ও সংস্কার: হামলার শিকার মাজার, খানকাহ ও দরগাগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পুনঃসংস্কার করা।
রাষ্ট্রীয় নীতিমালা: সুফি-সমাজের মতামতের ভিত্তিতে অবিলম্বে ‘মাজার ও দরগাহ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।

মাকাম আশা প্রকাশ করে যে, দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার্থে এবং কুষ্টিয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার অবিলম্বে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

আরো পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ পঠিত