ইন্ডিয়ার উত্তরপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক নগরী জায়েস শরীফে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত সুলতান সৈয়দ শাহ্ মাখদুম আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানী (রহ.)-এর ৬৪০তম পবিত্র উরসে মাখদুমী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে।
গত ১৩ ও ১৪ জুলাই মদিনা মসজিদ সংলগ্ন দরগাহে মাখদুম আশরাফ, জায়েস শরীফে দুই দিনব্যাপী এ উরস শরীফের বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইন্ডিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ভক্ত, আশেকান ও অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেন।
উরসের প্রথম দিন ১৩ জুলাই হযরত মাখদুম আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানীর জীবন, কর্ম, আধ্যাত্মিক অবদান ও দর্শন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা তাঁর শিক্ষা, মানবকল্যাণমূলক আদর্শ এবং তাসাউফ চর্চায় অনন্য অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় দিন ১৪ জুলাই চাদর প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এরপর কুল শরীফ পাঠ, দোয়া মাহফিল এবং দিনব্যাপী বিভিন্ন ইসলামি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এশার নামাজের পর অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী মাহফিলে সেমা, যেখানে ভক্ত-অনুসারীরা গভীর ধর্মীয় আবহে অংশগ্রহণ করেন।
উরস শরীফের সকল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দরগাহে আশরাফিয়ার সাহিবে সাজ্জাদাহ, খাতিবে আজম হযরত সৈয়দ শাহ্ মোহাম্মদ আশরাফ কালিম আশরাফী আল জিলানী (মা.জি.আ.)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হযরত সৈয়দ শাহ্ কাসিম আশরাফ হাসান আশরাফী আল জিলানী, হযরত সৈয়দ শাহ্ আহমেদ জামাল আশরাফ জিলানী, হযরত সৈয়দ আলিম আশরাফ আশরাফী আল জিলানী, বিভিন্ন দারগাহ ও খানকাহর পীর-মাশায়েখ, খলিফাবৃন্দ এবং ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অসংখ্য ভক্ত, মুরিদ ও অনুসারী।
উক্ত দরগাহ্ ওয়ালিয়ে আহাদ সৈয়দ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানী সুফি টাইমসকে বলেন, হযরত সুলতান সৈয়দ শাহ্ মাখদুম আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানী (রহ.) শুধু একজন বুযুর্গ নন, তিনি ছিলেন ইলম, আমল, ইখলাস ও মুহাব্বতের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ হলো আত্মশুদ্ধি, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহর অনুসরণ এবং সৃষ্টির কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। মাখদুম পাক (রহ.)-এর দরবার যুগে যুগে মানুষের হৃদয়ে ঈমান, ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিকতার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁর আদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, জিকির-আজকার, দোয়া ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী ৬৪০তম পবিত্র উরসে মাখদুমীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।